শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১১:৪২

সূরা ইখলাস سورة الاخلاص

সূরা ইখলাস سورة الاخلاص

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘সূরা ইখলাস سورة الاخلاص’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

সূরা ইখলাস কোরআনের ক্ষুদ্র সুরাগুলোর অন্যতম। সূরা কাওসারের পর এই সূরাই সবচেয়ে ছোট। সূরা ইখলাস পবিত্র কোরআনের ১১২ নম্বর সুরা।

ইখলাস অর্থ গভীর অনুরক্তি, একনিষ্ঠতা, নিরেট বিশ্বাস, খাঁটি আনুগত্য, ভক্তিপূর্ণ উপাসনা। এই সূরা হিজরতের আগে মক্কার প্রথম যুগে অবতীর্ণ হয়, সুরাটি সূরা নাসের পরে। সুরা ইখলসের আয়াত সংখ্যা ০৪। রুকুর সংখ্যা একটি।

ইখলাস বলা হয়, শিরক থেকে মুক্ত হয়ে— তাওহিদ বা এক আল্লাহর ওপর নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে। এ সূরার মর্মার্থের ভিত্তিতে নামকরণ করা হয়েছে সূরা ইখলাস।

সূরা ইখলাসের শানে নুযুল
আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ভুল ধারণা এ সূরা অবতীর্ণ হবার মূল কারণ। কিছু ইহুদি নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, তুমি আমাদেরকে তোমার রব সম্পর্কে বলতো-তার কিছু বিবরণ দাও।

আল্লাহ তাআলা তাওরাতে তার পরিচয় তুলে ধরেছেন এবং কতিপয় গুণাবলী বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তুমি আমাদের বল, তিনি কিসের তৈরি? কোন শ্রেণী ভুক্ত তিনি ? তিনি কি স্বর্ণ না রৌপ্য নাকি তাম্র? তিনি কি খাবার ও পানীয় গ্রহণকরেন?

পৃথিবীর উত্তরাধিকার তিনি কার থেকে পেয়েছেন আর তার উত্তরাধিকারীই বা হবে কে ? এর জবাবে আল্লাহ তাআলা এ সূরা নাযিল করেছেন।

সুরা আল ইখলাস পাঠে অনেক ফজিলত
সুরা আল ইখলাস মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআনের। শব্দ সংখ্যা ১৫, অক্ষর ৪৭। এই সুরাতে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব ও সত্তার সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি কোরআনের অন্যতম ছোট সুরা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে।

তবে এই সুরা কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান বলা হয়। ইখলাস অর্থ গভীর অনুরাগ, একনিষ্ঠতা, নিরেট বিশ্বাস, খাঁটি আনুগত্য। শিরক থেকে মুক্ত হয়ে তাওহিদ বা এক আল্লাহর ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলা হয়।

মুশরিকরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে আল্লাহর বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল, যার জবাবে এই সুরা নাজিল হয়। কোনো কোনো রেওয়ায়েতে আছে যে তারা আরও প্রশ্ন করেছিল, আল্লাহ তাআলা কিসের তৈরি—স্বর্ণ-রৌপ্য অথবা অন্য কিছুর? এর জবাবে সুরাটি অবতীর্ণ হয়েছে।

সুরা ইখলাসের ফজিলত অনেক। সুরা ইখলাস যিনি ভালোবাসবেন, তিনি জান্নাতে যাবেন। হাদিসে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর কাছে এসে আরজ করলেন, আমি এই সুরাকে ভালোবাসি, রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে দাখিল করবে। (মুসনাদে আহমদ ৩/১৪১)

কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ: হাদিসে এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা সবাই একত্র হয়ে যাও, আমি তোমাদের কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ শোনাব। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা ইখলাস পাঠ করলেন। (মুসলিম, তিরমিজি)

বিপদে-আপদে উপকারী: হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-বিকেল সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে, তাকে বালা-মুসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়। (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি)

এই সূরার আয়াতগুলোতে আল্লাহ তায়ালার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে এভাবে-

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ – اللَّهُ الصَّمَدُ – لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ – وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ:
কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি)

অর্থ:
১. বল, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়।
 ২. আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন।
 ৩. তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি। 
৪. আর তার কোন সমকক্ষও নেই।

সাহাবি উবাইয় বিন কা’ব রা. বলেন, মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, তুমি আমাদেরকে তোমরা রবের বংশ পরম্পরা বর্ণনা করে শুনাও, তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন, (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ . اللَّهُ الصَّمَدُ) (আসবাবুন্নুযূল লিল-ওয়াহিদি)




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024