শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৫

ব্রিটেনে কীভাবে সরকার গঠন হয়

ব্রিটেনে কীভাবে সরকার গঠন হয়

ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের ১৪ বছরের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঋষি সুনাকের সরকার। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল বলে দেবে, তার দল ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে কিনা।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হবে রাত ১০টায়। এরপরই শুরু হয় এক্সিটপোল বা বুথফেরত জরিপের ফল ঘোষণা। হাজারো ভোটার, যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের ওপর জরিপ চালিয়ে এই ফল ঘোষণা করা হয়।

তবে বুথফেরত জরিপই প্রকৃত ফল নয়। আবার অনেক সময় এর সঙ্গে প্রকৃত ফল মিলেও যায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনে পূর্ণাঙ্গ পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়। তাতে বরিস জনসন দলের নেতৃত্ব দিয়ে কনজারভেটিভদের জন্য ভূমিধস জয় পান।

এতে কাজ করেছে তার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা, দেশকে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি। এর আগে ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বৃটেনকে বের করে আনার পক্ষে বৃটিশরা গণভোটে রায় দেন।

বরিস জনসনকে দিয়ে সরকার শুরু করলেও দ্রুত সরকারে পরিবর্তন হয়। তার আগেই করোনাভাইরাস মহামারি গ্রাস করে ব্রিটেনসহ পুরো বিশ্বকে। ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে গিয়ে জটিলতা, করোনার সময় লকডাউন নিয়ম ভঙ্গ করে বরিস জনসনের পার্টিগেট কেলেঙ্কারি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের মাত্র ৬ সপ্তাহের বিপর্যয়কর সময়কাল।

গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য গড়ে উঠেছে ইংল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলকে নিয়ে। এসব এলাকায় আছে পার্লামেন্টের ৬৫০টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য একটি পার্টিকে কমপক্ষে ৩২৬টি আসনে জয় পেতে হয়।

যদি তার থেকে কম আসন পায় তাহলে অন্য দলের সঙ্গে জোট করে গঠিত হয় ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। এক্ষেত্রে সমর্থনকারী দলগুলো অনানুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়ার চুক্তি করে। এভাবে যে সরকার গড়ে ওঠে তাকে বলা হয় মাইনরিটি সরকার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনে প্রথম জোট সরকার গঠন হয় ২০১০ সালে। তখন লিবারেল ডেমোক্রেটদের সঙ্গে যুক্ত হয় কনজারভেটিভ পার্টি। আবার ২০১৭ সালে কনজারভেটিভদের মিত্র হয় উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু হলো ব্রিটেনের অর্থনীতি।

জরিপ বলছে, সেখানে জীবনধারণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড পর্যায়ে বেড়ে যাওয়ার কারণে এসব ইস্যু সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। ২০২২ সালে মুদ্রাস্ফীতি শতকরা ১১.১ ভাগে পৌঁছে যায়। একে বলা হয় পিক মুদ্রাস্ফীতি। তবে সম্প্রতি তা টার্গেটেড লেভেলে আসতে শুরু করেছে।

ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) আরেকটি শীর্ষ অগ্রাধিকার। এনএইচএস হলো রাষ্ট্রীয় তহবিলে জনগণের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা। ২০০৯ সালের পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের অধীনে আর্থিক কৃচ্ছ্রতাসাধনের ফলে ব্রিটেনের সরকারি সেবাখাতগুলোতে তহবিলের সংকট দেখা দেয়। দেখা দেয় স্টাফের ব্যাপক সংকট।

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার আগেই এনএইচএস-এর অধীনে চিকিৎসাপ্রার্থীদের অপেক্ষমাণের তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে। তারপর তো রোগীর সংখ্যা আকাশচুম্বী হতে থাকে। এটাই জনগণের অসন্তোষের বড় একটি উৎস। শীর্ষ ইস্যুগুলোর মধ্যে অনেক ভোটারের কাছে তৃতীয় ইস্যু হলো অভিবাসন।

যদি বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে লেবার পার্টির কাছে কনজারভেটিভরা হেরে যায় তাহলে শুক্রবার বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে ছুটে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। সেখানে তিনি রাজা চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

তবে এটা নির্ভর করে হারা-জেতার ওপর। যদি ঋষি সুনাক হেরে যান এবং পদত্যাগ করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের চেহারা দ্রুত পাল্টাবে। দ্রুত গাড়ি ছুটবে। প্রধানমন্ত্রীর বিদায় দ্রুততর হবে।

ওদিকে কিয়ের স্টারমার রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের অনুমতি চাইবেন। রাজা চার্লস তাকে অনুমোদন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করলে তিনি ফিরে যাবেন ডাউনিং স্ট্রিটে। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে তিনি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেবেন এবং তারপর বিখ্যাত কালো দরজার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করবেন প্রধানমন্ত্রীর এই বাসভবনে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024