কারখানার অপারেটর তাজরিনা বেগম বলেন, তাদের এ বছরের জুন, জুলাই মাসের বেতন এবং ঈদ বোনাসের দাবির প্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদক পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস ও ব্যবস্থাপক আব্দুল মোতালেব লিখিত অঙ্গীকার করেছিলেন। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বেতন-বোনাস পরিশোধের তারিখ থাকলেও তা পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ।
ফলে আমরা বেতন-বোনাস পাওয়ার আশায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে কারখানায় অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করি। এ সময় একে একে কারখানার মালিকসহ তার লোকজন পালিয়ে যায়। কারখানার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মালিকের কাছে বেতন চাইলে তিনি হাতে পর্যাপ্ত টাকা নেই বলে তাকে জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুল ইসলাম মাসুদ বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক প্রতিনিধি ও আমাদের সঙ্গে লিখিত অঙ্গীকার দেয় যে ২১ জুলাই তারা জুন মাসের পুরো এবং জুলাই মাসের ১৫ দিনের বেতন পরিশোধ করা হবে। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ কথা রাখেনি। তাই শনিবার বিকালে শ্রমিকরা জনৈক ব্যবসায়ি জুয়েলের কাছে কারখানার কিছু মেশিনপত্র প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করে নিজেদের মধ্যে জুন মাসের পাওনাদি টাকা বণ্টন করে নিয়েছে।
কারখানার উৎপাদক পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস জানান, গত মঙ্গলবার ইফতারের আগে সর্বশেষ কারখানার মালিক জাহিদ হোসাইন জাকিরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় কথা বলতে পারিনি। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মোশারফ হোসেন মেশিনপত্র বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন।