রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৭

নিখোঁজের সংখ্যা হঠাৎ অর্ধেক

নিখোঁজের সংখ্যা হঠাৎ অর্ধেক

সালাহউদ্দিন ওয়াহিদ প্রীতম: মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় লঞ্চডুবির ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে গত ছয় দিনে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেয়ার পর সপ্তম দিনে এসে হঠাৎ সেই সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার ১২২ জন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলেও রোববার তা কমে হয়েছে ৬১ জন। জেলা প্রশাসক বলছেন, যাচাই বাছাই শেষে এটাই ‘অথেনটিক’ তালিকা। 

অথচ গত ৪ অগাস্ট ঈদ ফেরত যাত্রীদের চাপের মধ্যে মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া ঘাটে আসার পথে ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ এ কতোজন যাত্রী ছিল, সে বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য নেই পুলিশের কাছে। দুর্ঘটনার পর ঠিক কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে সে সংখ্যাও জানা নেই  মাওয়া ঘাটে বসানো পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরতদের কাছে।

লঞ্চডুবির পরদিন গত মঙ্গলবার রাতে লৌহজং থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, নিখোঁজের সংখ্যা ১৬৯ জন। অথচ ওই রাতেই মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানান, স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১২৭ জন নিখোঁজ যাত্রীর একটি তালিকা তারা করেছেন।

বুধবার রাতে জেলা প্রশাসক জানান, তখন পর্যন্ত ১২৪ জন নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার ওই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৪ জন, শুক্রবার ১২৬ জন এবং শনিবার সকালে ১২২ জনে। এরপর রাতে মাওয়ার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিখোঁজের তালিকা হঠাৎ করেই ছোট করে আনা হয়।  জানানো হয়, নিখোঁজের তালিকায় আছে ৬৭ জনের নাম।

রোববার দুপুরে মাওয়ায় পদ্মা সেতু রেস্ট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বলেন, নিখোঁজ রয়েছেন ৬২ জন, আর সাত দিনে লাশ উদ্ধার হয়েছে ৪৬ জনের। বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া লাশের সংখ্যা না বাড়লেও নিখোঁজের তালিকা থেকে বাদ পড়ে আরো একটি নাম। মাওয়া ঘাটে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন জানান, ওই সময় পর্যন্ত ৬১ জন নিখোঁজ।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জেলা প্রশাসক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এতোদিন পর্যন্ত নিখোঁজের যে পরিসংখ্যান ছিল, সেটা করা হয়েছিল ঘাটে উপস্থিত স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে। সেখানে অনেকের নাম একাধিকবার ছিল। আমরা পরবর্তীতে তালিকায় থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই তালিকা করেছি। এই তালিকা অথেনটিক।

প্রায় একই কথা বললেন পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন। কিন্তু ওই লঞ্চে কতোজন যাত্রী ছিলেন, আর কতোজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি। লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার সময় সেখানে কতোজন যাত্রী ছিল এটা অ্যাকুরেটলি বলা যাচ্ছে না। কারণ লঞ্চডুবির পর জীবিত অবস্থায় কতোজনকে উদ্ধার করা হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা আমাদের জানা নেই।

লঞ্চডুবির পর ৪ অগাস্ট রাতে লৌহজং থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, পিনাক-৬ এর ধারণ ক্ষমতা ১২০ থেকে ১৫০ জনের মতো হলেও তাতে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন দুর্ঘটনার পরপরই ১১০ জনকে উদ্ধার করা হয় বলেও সে সময় জানিয়েছিলেন তিনি। উদ্ধার হওয়া যাত্রীর সংখ্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকও কাছাকছি তথ্য দিয়েছিলেন সেদিন।

লঞ্চডুবির পরদিন ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কাওড়াকান্দি থেকে লঞ্চটি ১৬০-১৭০ জন যাত্রী নিয়ে আসছিল। এরপর কাঁঠালবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে আরো শতাধিক যাত্রী তুলেছিল। মন্ত্রী আরো বলেন, “যদি কাওড়াকান্দি থেকে সরাসরি মাওয়া আসতো, তাহলে লঞ্চটি হয়তো ডুবত না। বাড়তি এই শতাধিক যাত্রীর চাপ লঞ্চডুবির অন্যতম কারণ বলে মনে হচ্ছে।” মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে হিসাব করলেও ধরে নিতে হয়, সেদিন লঞ্চে যাত্রী ছিল আড়াইশর বেশি।

কিন্তু উদ্ধার হওয়া ৪৬ জনের লাশ, প্রথম দিন স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১১০ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং তার সঙ্গে সপ্তম দিন পর্যন্ত ৬২ জনকে নিখোঁজ  ধরে নিয়ে যোগ করলে মোট ২১৮ জন যাত্রীর হিসাব পাওয়া যায়। এই সংখ্যা উদ্ধারকর্মী, লঞ্চের যাত্রী বা মন্ত্রী- কারো বক্তব্যেরই কাছাকাছি যায় না।

মাওয়া ঘাটে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন বলেন, “আমরা শুধু নিখোঁজ ও লাশের অনুসন্ধানে মনযোগ দিচ্ছি। যে ৪৬টি লাশ এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৮টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া চেনার উপায় না থাকায় ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে ১৫টি লাশ মাদারীপুরে দাফন করা হয়েছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024