নিউজ ডেস্ক: সাত শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি নিয়ে শুরু হল নতুন অর্থবছর। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে তা কিছুটা বেড়ে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন। ৫ জুন চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জুনের মধ্যে গড় মূল্যস্ফীতি ( ১২ মাসের গড়) মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের কাছাকাছি এবং ২০১৫ সালের জুন শেষে তা আরও কমে আসবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
কিন্তু জুন শেষে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর মাসিক হিসাবে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে শুরু হল ২০১৪-১৫ অর্থবছর। এতোদিন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করতো। গত তিন মাস ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী তা প্রকাশ করছেন; সঙ্গে অবশ্য বিবিএসের কর্মকর্তারাও থাকছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুন মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জুলাইতে সেটি সামান্য বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে। জুনে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জুলাইতে তা বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। তবে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি এসময়ে কিছুটা কমেছে। জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ শতাংশ, জুলাইয়ে তা কমে হয়েছে ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
বিবিএস বলছে, পরিধেয় বস্ত্র, বাড়িভাড়া, আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী, চিকিত্সাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণসহ খাদ্য-বহির্ভূত খাতের বিভিন্ন দ্রব্যের দাম বেড়েছে। একারণে মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিবিএসের মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে পোশাক ও গৃহসজ্জার নানা পণ্যের বাজার ছিল বেশ সরগরম। মূল্যস্ফীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে।