আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সাইবার হামলাকারী ভিনদেশি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর আঘাত হানতে চাওয়া এমন সব কর্মকাণ্ড মোকাবিলাকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবেও ঘোষণা করেছেন ওবামা। খবর রয়টার্সের।
বুধবার এক নির্বাহী আদেশবলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগকে সাইবার হামলাকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার এবং তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এই সুযোগ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে সাইবার হামলাকারী ভিনদেশি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলায় আরোপ করা এই নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংকটে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সমতুল্য বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের হোম ডিপো এবং অন্যান্য জাতীয় বিপণন সংস্থাসহ সামরিক নেটওয়ার্কে সম্প্রতি লাগাতার নানা সাইবার হামলার পরই এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। দেশটির আইনপ্রণেতা, নিরাপত্তা ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তবে, তারা বলছেন, আশ্চর্যজনকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতা অনেক ব্যাপক। ফলে এটা নানা কোম্পানির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা, সাইবার হামলার বিষয়টি এতটাই জটিল যে, একটা ঘটনার নানা স্তরে সম্পৃক্ত হয়ে পড়া নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সত্যিকার দোষীদের চিহ্নিত করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেছেন, স্পর্শকাতর অবকাঠামোর ক্ষতিসাধন করা, আর্থিক তহবিল তছনছ করে দেওয়া, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা চুরি ব্যবসায়িক লাভের জন্য তা ব্যবহার করা এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কে হামলা চালানোর ঘটনায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান জেনেশুনেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক ক্ষতি করতে চুরি করা তথ্য ব্যবহার করবে তারাও এর আওতায় পড়বে।
ওবামা বলেন, এখন থেকে আমাদের ক্ষমতা তৈরি হলো তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যবসা করাটাকে কঠিন করে তোলার এবং অনৈতিক কাজের মধ্য দিয়ে তাদের মুনাফা অর্জনকে সীমিত করে দেওয়ার।