সাগর চৌধুরী: আর মাত্র পঁচিশ (২৫) দিন বাকী এরপর বিশ্বের কোন বিমান বন্দর কিংবা ইমিগ্রেশন হাতে লেখা পাসপোট গ্রহন করবে না। আর্ন্তজাতিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের আইন অনুযায়ী ছব্বিশ (২৪) নভেম্বরের পর হাতে লেখা সমস্ত পাসপোট অকার্য্যকর হয়ে যাবে।
যেসকল প্রবাসী এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোট) করেননি তাদের জন্য এখনো পঁচিশ (২৫) দিন সময় আছে। তারা সর্বশেষ এই সময়টুকুও কাজে লাগাতে পারেন । মনে রাখতে হবে এই র্নিদিষ্ট সময় শেষ হলেই এমআরপি ছাড়া কোন ভিসাও নবায়ণ হবে না।
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ ২৮ অক্টোবর বূধবার বিকেলে রিয়াদস্হ বাংলাদেশ দূতাবাসের কনফারেন্স কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন । তিনি আরো বলেন, আমরা আপ্রান চেষ্ঠা করছি ২৪ নভেম্বরের মধ্যেই সৌদি আরবে বসবাসরত সকল প্রবাসীর হাতে এমআরপি পৌঁছাতে।
তিনি জানান, প্রতি দিন প্রায় পনেরশত এমআরপি আবেদন গ্রহন করার ক্ষমতা সম্পন্ন জনবল রয়েছে রিয়াদ দূতাবাসের কিন্তু এখন মাত্র দুইশত থেকে তিনশত এমআরপি এর আবেদন আসছে । এবং প্রতি দিন প্রায় নয়শত থেকে বারোশত এমআরপি বিতরন করা হচ্ছে । জেদ্দাস্হ কস্যুলেটেও একই অবস্হা । রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ আবারও বলেন, ছব্বিশ (২৪) নভেম্বরই সর্বশেষ সময়, এর পর এই সময় বৃদ্ধির কোন সুযোগ নাই।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক সংস্হা (বাপ্রসাস) এর সভাপতি সাংবাদিক অহিদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসের এইচওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ৩৯ নং সিরিয়ালের পাসপোটটি প্রস্তুত থাকলেও পাসপোটের গ্রাহক এখনও সেটি সংগ্রহ করতে আসেননি। এমনি ভাবে চার লাখ তের হাজার ছয়শত একান্নব্বই নং সিরিয়ালের মধ্যে অদ্যবধি বিশ হাজার নয় শত সাতাশিটি পাসপোট বিতরনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও গ্রাহকরা তা নিতে আসছেন না।
তিনি বলেন, আমাদের চেষ্ঠা অব্যাহত থাকবে শেষ পাসপোটটি বিতরন পর্যন্ত । দূতাবাসের ওয়েব সাইডে http://www.bangladeshembassy.org.sa/downloads/listUmrp.pdf এই পাসপোটগুলির নাম্বার দেওয়া আছে । প্রবাসীরা সেখান থেকে তাদের পাসপোটের তথ্য নিশ্চিত হয়ে শিফা কন্সুলেট থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবেন।
সাংবাদিক সাগর চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, শীঘ্রই সৌদি সরকারের উচ্ছ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে ।তারা ডাক্তার, নার্স সহ অন্য আরো অনেক পেশার দক্ষ শ্রমিক নিয়োগের চুক্তি করবেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসের কাউন্সিলর (পাসপোট)খায়রুল আলম জানান, সৌদি সরকারের হিসাব মতে এদেশে বাংলাদেশী প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় তের লাখ । এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে করে আসা এক লাখ একত্রিশ হাজার পাঁচশত সাতান্নব্বইসহ প্রায় দশ লাখ প্রবাসীর এমআরপি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, এমআরপি কার্য্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ২৯ জুন। এই পর্যন্ত তিন হাজার তিনশটি এমআরপি এর সমম্যা চিহ্নিত হয়েছে, তারমধ্যে সতেরশটি ডিমো এবং ষোলশটি এপিক্স সমস্যা। তিনি বিশ্লেষন করেন, জন্ম নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ, নাম, পিতা-মাতার নাম এবং নাম্বারে ভুলত্রুটি থাকলেই এমআরপি ডিমো হতে পারে। একই ব্যক্তি একাধিক এমআরপি করার চেষ্ঠা করলে এপিক্স সমস্যা হয়। এজন্য এমআরপি করতে হলে সমস্ত তথ্যাদি সঠিক এবং নির্ভুল দিতে হবে।
বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক সংস্হা (বাপ্রসাস) এর সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক ইউছুফ খাঁনের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, সাধারন ক্ষমায় আট লাখ বাংলাদেশি বৈধ হয়েছেন এরপর অবৈধ শ্রমিক থাকার কথা নয়। বাংলাদেশিদের নুন্যতম কাগজপত্র থাকলেও আমরা তাদের নতুন পাসপোট দেওয়া কিংবা দেশে পাঠানোর ব্যবস্হা করে থাকি।
তিনি আরো বলেন, সৌদি আরব থেকে বিকাশে টাকা পাঠানো সর্ম্পূন অবৈধ। তাই বিকাশ করা থেকে বিরত থাকুন এবং অন্যদের বারন করুন । প্রবাসীদের আইনি সহায়তার জন্য দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, কোন প্রবাসীর বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও সৌদি আইন প্রয়োগকারী সংস্হা কর্তৃক হয়রানির শিকার হলে, ঘটনার সত্যতা এবং তথ্য প্রমান সাপেক্ষে দূতাবাস ব্যবস্হা নিবে।
সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান আলতার প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২/৩ মাসের মধ্যে সৌদি এবং বাংলাদেশের মধ্যে ডেডিকেটেড কার্গো ব্যবস্হাপনার সম্ভাবনা রয়েছে । এই ব্যবস্হা সম্পন্ন হলেই প্রবাসীরা কার্গো ব্যবসায়ীদের হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন।
বাংলাদেশ প্রবাসী সাংবাদিক সংস্হা (বাপ্রসাস) এর নেতৃবৃন্দের দাবীর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্ঠা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছিলেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস উইং খোলা হবে। জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, দূতাবাসে কর্মাস এবং প্রেস উইং খোলার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। ঢাকাতে এই ব্যাপারগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দূতাবাসের কাউন্সিলর (ইকোনমিক) মোহাম্মদ আবূল হাসান বলেন, http://www.nrb.global/registration.php এই ওয়েব সাইডে সৌদি আরবে বসবারত দক্ষ প্রবাসীদের নাম নিবন্ধনের অনুরোধ করছি।
এসময় আরো উপস্হিত ছিলেন দূতাবাসের কাউন্সিলর ফরিদউদ্দীন আহমেদ, প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।