শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: হোম অফিসের এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই শিশুরা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রে যুক্ত হয়। ৯ বছর বয়সী স্কুল শিশুদের দামী ট্রেইনার, ট্রাকস্যুটসহ ইত্যাদি লোভনীয় দ্রব্যের বিনিময়ে ড্রাগ পাচারে বাধ্য করে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্ররা। তাদের কথামত না চললে দেয়া হয় শাস্তি।
একই গবেষণা রিপোর্টে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অপরাধ জগতে যৌন নির্যাতন আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। অপরাধীরা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে যৌন নির্যাতন করে থাকে বলে রিপোর্টে বলা হয়।
রিপোর্টে একজন গ্যাং সদস্য জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে লোকাল স্কুল বা আশপাশের ১২ বছর বয়সীদের টার্গেট করা হয়। তাদেরকে অর্থের বা নতুন ট্রেইনার এবং ট্রাকস্যুটসহ ইত্যাদির লোভ দেখিয়ে দলে নিয়ে খুব সহজে ড্রাগ পাচারে ব্যবহার করা যায়। তারা কয়েক দিনের জন্য উদাও হয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ড্রাগ পাচারে ব্যস্ত থাকে বলেও গবেষণায় পাওয়া গেছে।
আর এক্ষেত্রে লন্ডনের অসহায় এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের সদস্যের বেশি টার্গেট করে থাকে সংঘবদ্ধ অপরাধী বা মাদক ব্যবসায়ীরা। সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের ৫০ শতাংশ সদস্যের বয়স ১২ থেকে ১৪ বছর। আর ৯ থেকে ১১ বছর বয়সী সদস্যের সংখ্যা মাত্র ৭ শতাংশ।
এছাড়া বিশেষ জায়গা যেমন, জেল বা অন্যকোনো স্পর্ষকাত এলাকায় ড্রাগ বা অস্ত্র পাচারে ব্যবহার হতে নারীদের বাধ্য করা হয়। এদিকে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র আগের মতো আর স্ট্রীটে অবস্থান না করে সোসাল মিডিয়া নির্ভর হয়ে যাচ্ছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। কোনো কোনো অপরাধক্র তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিহ্ন হিসাবে বিশেষ গ্রাফিটি ব্যবহার করে থাকে।
গবেষণা রিপোর্টে অংশ নেয়া বেশির ভাগ অপরাধ চক্রের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের উপর প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারী বা মেয়েদের ব্যবহার করা হয়। এ কারণে প্রয়োজনে তাদের উপর চালানো হয় শারীরিক বা যৌন নির্যাতন। আবার কোনো কোনো অপরাধচক্রের নেতা নিজের কর্তৃত্ব জাহির করার জন্যও নারী বা মেয়েদের উপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে থাকেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ৩৩টি এলাকার পুলিশ, লোকাল অথোরিটি, হেলথ সার্ভিস, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সাবেক ও বর্তমান সদস্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ করে এ রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে বলে হোম অফিস থেকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয় গবেষণা রিপোর্টে।
হোম অফিস মিনিষ্টার কিরান বেডলি জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এবং ইয়ূথ ভায়োল্যান্সের কমিউনিটি এবং পরিবারের জন্য ধ্বংস ডেকে আনছে। এ কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে বেসিলডন, গ্রিমসবি, হ্যারো, হ্যাস্টিং এবং ইস্টবার্ন, হাইওয়েকম্ব, মেডওয়ে, সাটন, সাউথাম্পটন এবং সুইনডনে নতুন করে বিশেষ প্রোগ্রাম চালু করা হবে।