শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পন্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পরপরই গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কিছু পরিমাণে রপ্তানি হরেও শুক্রবার থেকে দেশটিতে সবজি ও ফল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বছরে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার যুক্তরাজ্যের বাজার হারাবে জানান ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে দেশটিতে রপ্তানির সঙ্গে জড়িত প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকার সবজি ও ফল যাচ্ছে। এ দেশ থেকে উড়োজাহাজে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টন এ পণ্য দেশটিতে রপ্তানি হয়। এখন আকাশপথে পণ্য পাঠানোর সুযোগ না থাকায় রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পচনশীল এ পণ্য নৌপথে জাহাজে করে রপ্তানির সুযোগ নেই। তবে অন্যান্য পণ্য আকাশপথের বিকল্প হিসেবে নৌপথে রপ্তানি করা যাবে।
সবজির বড় বাজার ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য দুটিই বাধার মুখে রয়েছে। ইউরোপের বাজারে পাঠানো কিছু পণ্যে সমস্যা পাওয়ায় আগে থেকেই রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ায়ও আগে থেকে আকাশপথে কার্গো পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে তিনটি বাজারে পণ্য রপ্তানি বিপর্যয় হয়েছে। বর্তমানে এ দেশ থেকে কাঁকরোল, কাঁচামরিচ, বরবটি, শিম, লাউ, পটোল, কচু, লতি, করলা, পান ও বিভিন্ন ধরনের শাকসহ অর্ধশতাধিক সবজি এবং লেবু, আমড়া, চালতে, আম, কাঁঠালসহ নানা জাতের মৌসুমি ফল রপ্তানি হয়। এসব ফল ও সবজি মূলত প্রবাসী বাঙালিরাই বড় ক্রেতা।
সবজি রপ্তানিকারকদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, কৃষি খাতের পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বেশি পণ্য যেত কাতার এয়ারে। এ এয়ারলাইন্স শুক্রবার থেকে পণ্য নেওয়া বন্ধ করেছে। আগে ট্রানজিটে দোহা থেকে স্ক্যান করে পণ্য পাঠানো হয়েছে। এতে বেশি সময় ক্ষেপণ হওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিহাদ, এমিরেটস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদিসহ সব এয়ারের প্রায় একই অবস্থা।
তিনি বলেন, এক দেশ বন্ধ করলে তৃতীয় দেশ থেকে স্ক্যানিংয়ের সুযোগ পাওয়া কঠিন। এ ক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে পদক্ষেপ নিয়ে স্ক্যানিং পদ্ধতি উন্নয়ন জরুরি। গত তিন মাস আগে নোটিশ দেওয়ার পরেও কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এমন সংকটে পড়তে হয়েছে। যদিও চলতি মাস পর্যন্ত সময় ছিল। দুই দফা নোটিশ দেওয়ার পরে যুক্তরাজ্যের পরিদর্শক টিমের পরিদর্শনে স্ক্যানিং পদ্ধতির কোনো অগ্রগতি না পাওয়ায় বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সামান্য কিছু পদক্ষেপের অভাবে বড় হুমকিতে পড়েছে সবজি রপ্তানি। এর ফলে এই খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করা ছাড়া কৃষকরা বিকল্প উপায় পাবেন না।
সংগঠনটির সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী হলে এ বাজার হারাতে হবে। তবে বাজার ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাদের ট্রানজিট পয়েন্টে স্ক্যান করে যুক্তরাজ্যে পাঠানো যেতে পারে। তিনি বলেন, দেশটির ক্রেতাদের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এখন আর পণ্য পাঠানো না গেলে ক্রেতারা প্রতিযোগী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে চলে যাবে। দেশটির ক্রেতাদের কাছে প্রায় শতকোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে, তা আদায় করা দূরুহ হবে।
সবজি ও ফল রপ্তানি বড় বাজার যুক্তরাজ্য। এ বাজার হারালে রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গত অর্থবছরে এ পণ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৪ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার (১,১৩২ কোটি টাকা)। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই হয়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারে। যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সে দেশে উড়োজাহাজে পণ্য পরিবহনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সে দেশে উড়োজাহাজে পণ্য পরিবহনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।