শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ব্যবসা থেকে আয় কম দেখিয়ে কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির এক নেতাসহ চার বাংলাদেশির বিচার চলছে। এরা হলেন: ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়েদুল হক অভি (৪৯), ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্নডন সিটির মোহাম্মদ আলী (৫৪), আলেক্সান্দ্রিয়ার মোহাম্মদ রহমান (৪৩) ও মোহাম্মদ সিদ্দিক (৫৩)।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সাবওয়ে রেস্তোরাঁ ও গ্যাস রিফুয়েলিং স্টেশন ব্যবসায় কয়েক মিলিয়ন ডলার আয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগে গত জানুয়ারিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় বলে ইস্টার্ন ডিসট্রিক্ট অব ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি ডানা জে বয়েন্ট জানান। এরা চারজনই কর ফাঁকির কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বয়েন্ট বলেন, ওবায়দুল হক অভির পরামর্শে আয়ের তথ্য গোপন করেছিলেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন মোহাম্মদ, রহমান ও সিদ্দিক। এর মধ্যে সিদ্দিক ৫ লাখ ৭২ হাজার ডলার, আলী দেড় মিলিয়ন ডলার ও রহমান সাড়ে ৫ লাখ ডলারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন। আর অভি সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার কর ফাঁকির কথা গত ২৭ জানুয়ারি আদালতে স্বীকার করেন বলে বয়েন্ট জানান।
১৯৮৭ সাল থেকে ভার্জিনিয়ায় বসবাস করা ওবায়েদুল হক অভির ‘স্কাইহিল শেল’ নামে একটি গ্যাস রিফুয়েলিং স্টেশন ও ১২টি সাবওয়ে রেস্তোরাঁ আছে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সাবওয়ে রেস্টুরেন্টগুলোতে ২০ মিলিয়ন ৮ লাখ ডলারের বেশি লেনদেন হলেও অভি মাত্র ১৪ মিলিয়ন ৩ লাখ ৭৭ হাজার ডলারের হিসাব দেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের অভিযোগ।
রিফুয়েলিং স্টেশনের লেনদেন সম্পর্কেও ওবায়দুল হক সরকারকে ‘মিথ্যা তথ্য’ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন অ্যাটর্নি বয়েন্ট। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগামী ১৩ মে ওবায়েদুল হকের মামলার রায় জানা যাবে। দোষ স্বীকার করায় তার সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে।
একইসঙ্গে তিনি ৬ বছরে যে কর ফাঁকি দিয়েছেন, তাও পরিশোধ করতে হবে। বাকিদের রায় ১৫ জুলাই ঘোষণা করা হবে বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি ক্যারোলাইন কাইরাওলো। ফাঁকি দেয়া কর পরিশোধের পাশাপাশি তাদের সর্বোচ্চ ৩ বছর করে জেল ও আড়াই লাখ ডলার করে জরিমানা হতে পারে।