শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিল রায় নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। খাদ্যমন্ত্রীকে নতুন করে তার ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ
কইসঙ্গে আগামী ২৭শে মার্চ ফের খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে রুলের শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে আজ সকাল ৯টায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অবমাননাকর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হাজির হন দুই মন্ত্রী। তাদের উপস্থিতিতে রুলের শুনানি হয়। শুনানিতে দুই মন্ত্রীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, যতই ক্ষমতাবান হোন না কেন, এই আদালত যে কোন আদেশ দিতে দ্বিধাবোধ করবেন না। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এই আদালত সংবিধানের অঙ্গ, সরকারের অঙ্গ নয়। আমাদের মধ্যে একটা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকে। আপনি (দুই মন্ত্রী) শুধু দেশের প্রধান বিচারপতি নন, সারা বিচার বিভাগকে ছোট করেছেন।
গত ৫ই মার্চ ঢাকায় এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে মীর কাসেমের আপিলের পুনঃশুনানির দাবি তোলেন কামরুল। আ ক ম মোজাম্মেল হকও প্রধান বিচারপতির সমালোচনা তাকে বাদ দেয়ার দাবি জানান। দেশের সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে কামরুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের বক্তব্যে স্তম্ভিত হয়ে ৮ই মার্চ আপিল বিভাগ তাদের তলব করেন। একই সঙ্গে আদালত অবমাননার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন কার্যক্রম শুরু করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন।
গত ১৫ই মার্চ দুই মন্ত্রীকে আপিল বিভাগে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। ওই দিন মোজাম্মেল হক আদালতে উপস্থিত হলেও সরকারি কাজে বিদেশে থাকায় কামরুল ইসলাম ছিলেন না। ওই দিন তাঁদের আইনজীবীদের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি মুলতবি করে ২০ মার্চ পুনর্র্নিধারণ করেন। দুই মন্ত্রী ইতিমধ্যে তাঁদের বক্তব্যের জন্য আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন।