শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে একটি চালকবিহীন জাহাজ পানিতে ভাসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শত্রুপক্ষের সাবমেরিন অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী চীন ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক সামুদ্রিক তৎপরতার বিপরীতে অনুসন্ধানমূলক কাজ করতেই এই চালকবিহীন জাহাজের উদ্বোধন করলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
সম্প্রতি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীন ও রাশিয়া সাবমেরিন বহর মোতায়েন করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলসীমায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করতেই নতুন এই চালকবিহীন জাহাজের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মা
র্কিন ডেপুটি প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট ওয়ার্ক বলেছেন, তারা আশা করছেন আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই জাহাজগুলো পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে পুরোদমে নজরদারির দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা একটি পুরোদস্তুর রোবটিক জাহাজ পানিতে ভাসাতে যাচ্ছি।
জাহাজটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটির প্রতিদিনের পরিচালন ব্যয় হবে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ মার্কিন ডলার যা বর্তমান খরচ বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিকট সস্তাই। দু’টি ইঞ্জিন দ্বারা চালিত জাহাজটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ধরা হয়েছে ঘণ্টায় ২৭ নটস বা ৫০ কিলোমিটারের সামান্য বেশি।
সি হান্টার নামের প্রতিরক্ষাহীন ১৩২ ফিট লম্বা জাহাজটি গুগলের চালকবিহীন কারের সামুদ্রিক ভার্সন। একবার পানিতে ভাসালে একটানা ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবে জাহাজটি। কোন ক্রু বা দূরনিয়ন্ত্রিত সিস্টেম ছাড়া জাহাজটি নিজে নিজেই চালিত হতে পারবে। এই দীর্ঘস্থায়ীত্ব ও নিজে নিজে চালিত হওয়ার সক্ষমতার কারণে মার্কিন নৌবাহিনী পরিচালিত জাহাজগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের একাংশ দ্বারাই সফলভাবে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন অনুসন্ধান করতে পারবে সি হান্টার।
এই জাহাজ উদ্বোধনের পর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দারুণ অগ্রগতি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এতে নিরাপত্তাসহ শত্রু মোকাবেলায় শক্তিশালীভাবে কাজ করতে পারবে বলে তাদের দৃড় বিশ্বাস বলে জানান।