শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দক্ষিন আমেরিকার এই দেশ ইকুয়েডরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭।
এতে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাসের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে ৫ শতাধিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাসের বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি।
বিবিসি জানায়, ইকুয়েডরের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। ভূমিকম্পবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ইকুয়েডরে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের গভীরতা ছিল ১৯ দশমিক ২ কিলোমিটার। রাজধানী কুইটো থেকে ১শ’ ৬০ কিলোমিটার দূরে ইকুয়েডরের মুইসনি শহরের কাছে বাংলাদেশ সময় রবিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর স্থানীয় উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এছাড়া দেশটির ৬টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভূমিকম্পের পরপরই ছয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে ৬ প্রদেশে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে উপকূলীয় প্রায় ৩শ’ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিপজ্জনক ঝড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে।
বিবিসি জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল রাজধানী কিটো থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরের মুইসন শহর। ভূমিকম্পে রাজধানী ভয়ংকরভাবে কেঁপে ওঠে। এর পর থেকেই রাজধানীর কিছু অংশ বিদ্যুৎহীন রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বন্দরনগরী গুয়াকুইলের অনেক ওভারপাস ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাস বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৭৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত ৫৮৮ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখনো অনেক ভূমিকম্পন কবলিত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা প্রবেশ করতে পারেনি।
ভূমিকম্পের পর ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট গ্লাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পোর্তোইয়েখো শহরে ১৬ জন, মানতা শহরে ১০ ও গুয়ায়াস শহরে দুজন নিহত হয়েছেন।
কিটোর বাসিন্দা জইলা ভিলেনা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পের পরপরই সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশে বাড়িঘর থেকেও কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এ সময় তাঁর বাড়ির বিভিন্ন জিনিস মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে।
ইকুয়েডরের ভূমিকম্পে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ইকুয়েডরের সমুদ্রের তীর থেকে ৩০০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্র পর্যন্ত বড় ঢেউ দেখা যেতে পারে, যার উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে দশমিক ৩ মিটার বেশি হতে পারে।