রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৭

ঢাকা হামলা: কেন শেখ হাসিনার জেগে ওঠা প্রয়োজন

ঢাকা হামলা: কেন শেখ হাসিনার জেগে ওঠা প্রয়োজন

নিউজ ডেস্ক: ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় অভিজাত একটি রেস্টুরেন্টে হামলায় বাংলাদেশে উগ্রপন্থার উত্থান এবং এ ধরনের ক্রমবর্ধমান হামলা ঠেকাতে দেশটির সামর্থ্যের দিকে মনোযোগী করেছে। এই হামলার সময়ে বন্দুকধারীরা বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করেছিল। হামলার দায় আইএস স্বীকার করেছে বলে এটা শঙ্কার কারণ নয়।

এটা এ জন্যও শঙ্কার কারণ যে, চাপাতি দিয়ে শিরশ্ছেদ করে ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের হত্যার ঘটনাগুলো থেকে এ হামলা অনেকটাই আলাদা। আগের হত্যাকাণ্ডগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারকে চাপে ফেলেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে আইএস। কিন্তু হাসিনা সরকার তা অস্বীকার করে আসছেন, বাংলাদেশে স্থানীয় জঙ্গিদের উপস্থিতির খবরও খারিজ করে আসছে সরকার।

বিদেশিদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে ঢাকার এমন একটি রেস্টুরেন্টে পরিচালিত হামলার দায় স্বীকার করেছে সিরিয়া ও ইরাকে চাপে থাকা আইএস। এর মাধ্যমে তারা এই বার্তা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে প্রতীয়মান হয় যে, তারা নিজেদের শক্তিশালী ঘাঁটি থেকে অনেক দূরের একটি দেশেও কার্যক্রম প্রসারিত করছে। এসব কথা লিখেছে ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দুস্তান টাইমস। ‘ঢাকাস ২৬/১১-লাইক অ্যাটাক: হোয়াই শেখ হাসিনা নিডস টু ওয়েক আপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি লিখেছেন হারিন্দর বায়েজা।

ওই প্রতিবেদনটির বাকি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো- বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের শুধু আইএসকে নিয়েই শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়, এটা নিয়েও শঙ্কিত হওয়া উচিত যে, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে আল কায়েদা ও আইএস প্রতিযোগিতা করছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় জিহাদি গোষ্ঠী জেএমবি’র সঙ্গে আইএসের, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে আল কায়েদার সংযোগের দিকে নির্দেশ করে থাকেন।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কৌশল বিশেষজ্ঞ অজয় শাহনি বলেন, ঢাকার রেস্টুরেন্টে হামলা ‘একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতির নির্দেশক’। কারণ বাংলাদেশের ‘স্মৃতিতে বোমা বিস্ফোরণ, বন্দুকের গোলাগুলি ও জিম্মি করার মতো পরিস্থিতি দেখার অভিজ্ঞতা নেই’। তিনি অবশ্য বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে এদের কার্যক্রমের কোনো যোগসূত্র নেই এবং নৃশংস এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যক্তিবিশেষকে হত্যার জন্য ইরাক থেকে বাংলাদেশে আসবে না।’ তিনি বলেন, জঙ্গি সহিংসতার চাপে বাংলাদেশ ভেঙে পড়ছে বলে মনে হলে তার কারণ হলো জিহাদি উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত লড়াই’।

সরকার যে গণগ্রেপ্তার চালিয়েছে তারই প্রেক্ষাপটে মূলত রেস্টুরেন্ট এ হামলা হয়েছে। আর সরকার নিজেই গণগ্রেপ্তারের যে সংখ্যার কথা জানিয়েছে তা ‘রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’ লড়াইকেই নির্দেশ করে। ওই সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে মাত্র ১৫০ জনকে সন্ত্রাসী হিসেবে পৃথক করা হয়েছে। বাকিরা জামায়াত ও বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

গত দুই বছরে উগ্রপন্থা ও মৌলবাদের যে উত্থান তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতা সে কারণে প্রশ্নের মুখে। এমনকি যদি তদন্তে এটাও বেরিয়ে আসে যে, এ হামলা আইএস পরিচালনা করেনি, তারপরও সরকারকে অস্বীকারের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আইএসের অনলাইন প্রোপাগান্ডামূলক ম্যাগাজিন দাবিক-এর সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের ওপর আইএসের নজর রয়েছে। ওই নিবন্ধে বলা হয়, আইএস একটি দেশে আক্রমণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যেখানে কেবল ২০০৬ সালেই কমপক্ষে ছয়টি হামলার দায় স্বীকার করেছে সংগঠনটি।

যদি আইএস মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ বৃহত্তম একটি দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে এর অর্থ হলো ভারতেরও শঙ্কিত হওয়া প্রয়োজন। কৌশল বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুরমিত কানওয়াল বলেন, ‘আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা নিতে হবে। একটি রেস্টুরেন্টে হামলা ও মানুষদের জিম্মি করার মতো মডেল ভারতেও প্রয়োগ হতে পারে।’ অজয় শাহনি বলেন, ‘এটা বড় ধরনের প্রভাব রাখতে পারে।’

শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তার বিস্তারিত আমরা জানি না। তবে আমরা এটা জানি যে, ভারত উগ্রপন্থার দ্রুত প্রসার ঠেকাতে কৌশল উদ্ভাবন করছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ইরাকে যাওয়ার কোনো প্রতিষ্ঠিত নজির নেই। ইতিমধ্যেই এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে ভারতে এবং দেশটির বেশকিছু নাগরিকই বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে রয়েছেন। আইএস যদি বাস্তবিকই ভারতের দোরগোড়ায় পৌঁছে থাকে, একা স্পষ্টতই শঙ্কার কারণ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025