শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: অর্থ পাচার মামলায় বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস ও তার বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সাত বছর কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন বিচারক মো. মোতাহার হোসেন।
২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ওই সময় তখন তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিশেষ জজ ছিলেন। রায়ের কিছুদিন পর সঙ্গোপনে তিনি সপরিবারে মালয়েশিয়া চলে যান। সেখান থেকে লন্ডনে যান।
এ রায় নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। তখন এই পলাতক বিচারককে খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইর কাছে চিঠি পাঠায় দুদক। ব্যাপারটি এখানেই শেষ হয়ে যায়।
হাইকোর্ট গতকাল এতদসংক্রান্ত রায়ে নিম্ন আ
দালতের বিচারক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। রায়ের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বিচারিক আদালতকে প্রভাবিত করে তারেক রহমান নিজেকে খালাস করে নিয়েছিলেন।
সেই বিচারক ওই রায় ঘোষণার দু’দিন পর সপরিবারে মালয়েশিয়া চলে যান। এমনকি নোটিশ দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত তিনি ফিরে আসেননি। এখন বলছি, কারণ উচ্চ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি যে রায় দিয়েছিলেন, তা সঠিক ছিল না।
নিম্ন আদালতে ওই দিন রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এজলাসকক্ষেই উল্লাস করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। পরে ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, সংক্ষুব্ধ আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন দুদকের আইনজীবীরা।
দুদক সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে খালাসের রায়ের পর ওই বিচারক মোতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিক্তিতে অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তার বাসার ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তিনি ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন। এর পর ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি মালয়েশিয়া চলে যান।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১২ সাল থেকে দেড় বছরে তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ঢাকায় তার নামে বাড়ি, গাড়ি, একাধিক ব্যাংকে জমানো মোটা অঙ্কের অর্থ রয়েছে। তার নামে লন্ডনে একটি বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল। ঢাকার আদাবরে তার নামে একটি বাড়ি ও বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পে একটি প্লট রয়েছে।