রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৭

নাইন-ইলেভেনের ১৫ বছর পূর্তি: এখনো উম্মোচিত হয়নি রহস্য শুধুই বিস্ময়

নাইন-ইলেভেনের ১৫ বছর পূর্তি: এখনো উম্মোচিত হয়নি রহস্য শুধুই বিস্ময়

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: আজ ১১ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ ২০০১ সালে ১৫ বছর আগের ঠিক এই দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এক যোগে চালানো হয়েছিল চার-চারটি আত্মঘাতী বিমান হামলা।

আকস্মিক এই সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। চারটি মার্কিন যাত্রিবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় ৯টার দিকে চালানো হয় এই হামলা।

দুটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে। নিমেষে ধসে পড়ে ভবন দুটি। আরেকটি বিমান নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায় জঙ্গিরা।

তবে চতুর্থ বিমানটি নিয়ে জঙ্গিরা পূর্ব নির্ধারিত স্থানে হামলা চালাতে চাইলেও যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পেনসিলভেনিয়ার আকাশে বিধ্বস্ত হয় সেই বিমান।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ টুইন টাওয়ার ধ্বংস এবং ভার্জিনিয়ায় পেন্টাগন ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাটি ব. … ৯/১১-এর ঘটনা সম্পর্কে প্রথমেই যে প্রশ্নটি আসে তা হল, প্রকৃতপক্ষে কারা এটি ঘটিয়েছিল? …. উল্লেখ্য, আজ পর্যন্ত পেন্টাগনে হামলার কোনো ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি।

পরিকল্পিতভাবে চালানো নারকীয় এ ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞের জন্য ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগ। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-কায়েদার তখনকার নেতা ওসামা বিন লাদেনই ছিলেন হামলার রূপকার। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে আত্মগোপন করে থাকা লাদেনকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ‘নেভি সিল’।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, আমেরিকার ৯/১১ টুইন টাওয়ার হামলা ঘটনার ৩ জন প্রত্যক্ষদর্শীর একই দিনে মৃত্যু হয়েছে। ক্যান্সারে … ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে এক বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার পর পরই … তবে আজ পর্যন্ত চিকিৎসকরা নিশ্চিত হতে পারেননি ওই হামলার সঙ্গে ক্যান্সারের কী সম্পর্ক ছিল।

২০০১ সালে নাইন ইলেভেনের হামলায় বিমান অপহরণকারীদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল সৌদি আরব থেকে এবং বারবার এমন সন্দেহ করা হয়েছে যে তাদের সাথে সৌদি সরকারের একটি সংশ্লিষ্টতা ছিল।

যদিও রিয়াদ বারবার এই অভিযোগ শক্তভাবে অস্বীকার করে এসেছে, তবে এখন এই আইনটি পুরোপুরি পাশ হয়ে গেলে নাইন ইলেভেন হামলায় আহতরা কিংবা নিহতদের পরিবার এই অভিযোগ নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হবার সুযোগ পাবেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই এসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করারও আহ্বান জানাচ্ছেন যেখানে হয়তো হামলার সাথে সৌদি সরকারের একটি যোগসূত্রের কথা উল্লেখ থাকতে পারে। তবে ওবামা কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই বিলের বিরোধিতা করে আসছে।

নাইন ইলেভেন কিংবা টুইন টাওয়ার হামলা সৌদি সংশ্লিষ্টতা আছে

তবে এবার গোপনীয় তথ্য সম্বলিত ২৮ পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে ইউএস কংগ্রেস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ওবামা প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন কর্মকর্তা তাদের এসব কথা জানিয়েছেন। তবে এতে সৌদি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে। কেননা ‘নুন্যতম পরিবর্তন’সহ এটি প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। এখন কথিত ন্যূনতম পরিবর্তনের পর এটি প্রকাশ করা হলে তার মধ্যে সৌদি আরবকে নিস্কৃতি দেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা এরআগে সিআইএ ডিরেক্টর সৌদি আরবকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

নাইন ইলেভেন কিংবা টুইন টাওয়ার হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত প্রতিবেদনটি ৮৩৮ পৃষ্ঠার। তবে এর ২৮ টি পৃষ্ঠা রয়ে গেছে অপ্রকাশিত। এ নিয়ে বহুদিন থেকে নানা রহস্য, নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। অনেকেরই ধারণা, ওই হামলায় সৌদি সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই ওই ২৮ পৃষ্ঠা প্রকাশ করেননি সৌদি মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ২০০২ সাল থেকে গোপনে সংরক্ষিত কংগ্রেসের ওই তদন্ত প্রতিবেদন। উচ্চ পর্যায়ের ওই প্রতিবেদনে ‘নির্দিষ্ট সূত্র থেকে ১১ সেপ্টেম্বর হামলায় বিদেশি শক্তির সমর্থন থাকা’র বিষয়ে তথ্য রয়েছে।

গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা দেন, তার ক্ষমতাকালেই প্রকাশিত হবে ওই গোপনীয় নথি।

কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বব গ্রাহাম ওবামা প্রশাসনের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশের কথা জানতে পারেন।তিনি বলেন, ‘আশা করি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে সম্মান জানানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি মানুষের কাছে সহজলভ্যও করা হবে।

আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবাসিও জানেতে চায় নাইন ইলেভেন কিংবা টুইন টাওয়ার হামলার মূল রহস্য । খোদ ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকানদের অনেকে ৯/১১ এর ঘটনাকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তাদের ভিতরের ব্যাপার মনে করে এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসন ভাল করে জানে ।

টুইন টাওয়ার ধ্বংস এবং ভার্জিনিয়ায় পেন্টাগন হামলা রহস্য উম্মোচিত না করা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জঙ্গি দমনের নামে ওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসবাদ বা সাম্রাজবাদ কায়েম করা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইরাক কিংবা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উৎস হিসেবে দেখেছেন কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আমেরিকাবাসির কাছে একদিন নাইন ইলেভেন হামলার নায়ক ও খলনায়ক খ্যাত যথাক্রমে আল কায়েদার লাদেন ও বুশ এর মধ্যে দায়ী কে সেটা আমেরিকাবাসি একদিন বিশ্ববাসীর নিকট প্রকাশ করবে।

৯/১১-এর কারণে আমেরিকা বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত মুসলিম অভিবাসী তথা মুসলমানরা কতখানি বিপদাপন্ন ও অসহায়ত্বের শিকার তা সে দেশের অভিবাসিরা মর্মে উপলিব্ধি করছে কারন আমেরিকান ইউরোপীয়দের মধ্যে কেউ কেউ ৯/১১-কে দেখছেন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ওপর মুসলিম বিশ্বের আগ্রাসনরূপে, আবার অনেকে এটাকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্ব বলির পাঁঠা হোক তা চান না। —৯/১১-পরবর্তী আমেরিকার যুদ্ধনীতি সমর্থনযোগ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারের এই বর্বর হামলার যারা হামলায় নিহত হয়ছে পরিবারদের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে নাইন ইলেভেন ঘটনো বা ঘটেছে সে কারনে অন্য অনেক নিরপরাধ রাষ্ট্র ও তার জনগনকে,

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবাসি ঠিকই একদিন নাইন-ইলেভেনের ঘটনার মূল রহস্য উম্মোচিত করবে কলঙ্ক ও দায়মুক্ত হবে বিশ্ববাসীর কাছে। সেই আশাবাদ আমেরিকাবাসির নিকট আজ ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ার হামলার ১৫তম বার্ষিকীতে আপাময় সাধারন মানুষের ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025