শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: জাস্টিস এগেইনস্ট স্পন্সরস অব টেরোরিজম অ্যাক্ট (জেএএসটিএ) নামের এ বিলটিতে শুক্রবার ভেটো দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু তার সেই ভেটোকে ওবামার দু’দফা ক্ষমতার মেয়াদে উল্টে দিয়েছে কংগ্রেস। এটাই তার সময়কালে তার ভেটোর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রথম শক্ত অবস্থান। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভেটো দেয়া ৯/১১ হামলা সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেস। দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট কংগ্রেসের উভয় কক্ষই ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ওই বিলটি পাস করেছে। এর ফলে ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সৌদি আরব সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।
বুধবার কংগ্রেসে এ বিলের ওপর ভোট হয়। এতে সিনেটে বিলটি পাস করার পক্ষে ৯৭ ভোট পড়ে। বিরুদ্ধে পড়ে মাত্র একটি ভোট। এ ভোটটি দিয়েছেন সংখ্যালঘু নেতা হ্যারি রিড। অন্যদিকে এর কয়েক ঘন্টা পরেই প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ভোটে দেয়া হয়। সেখানে বিলটিকে আইনে পরিণত করার পক্ষে ৩৪৮ ভোট পড়ে। বিপক্ষে পড়ে মাত্র ৭৭ ভোট।
টেক্সাসের রিপাবলিকান দলের সিনেটর জন করনিনের সঙ্গে এ বিলটির সহ-লেখক নিউ ইয়র্কের ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর চার্লস ই শুমার। শুমার বলেছেন, প্রেসিডেন্টের দেয়া ভেটো উল্টে দেয়ার বিষয়টিকে আমরা হালকাভাবে নেিই নি।
কিন্তু এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে ৯/১১ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সুবিচার পাবে, যদিও এ ঘটনায় কূটনৈতিক কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ওদিকে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জশ আর্নেসনট বলেছেন, কয়েক দশকের মধ্যে সিনেট যা করেছে তা সবচেয়ে বিব্রতকর। উল্লেখ্য, কংগ্রেসে এ ভোটের সময় অনুপস্থিত ছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও টিম কেইন। এর আগে মে মাসে এ বিলটিকে সর্বসম্মতক্রমে পাস করে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ।
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জন ছিরতাইকারী বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ও পেন্টাগনে বিমান হামলা করে। তারা ছিল সৌদি আরবের নাগরিক। যদিও রিয়াল এ হামলায় সমর্থন দেয়া বা তাদের কোন রকম ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। ওই হামলা নিয়ে গঠিত ৯/১১ কমিশনও সৌদি আরবের কোনো সংশ্লিষ্টতা পায় নি।
এক্ষেত্রে সৌদি আরব আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছে যদি এই বিলটি পাস করে আইনে পরিণত করা হয় তাহলে তারা নিরাপত্তা ও অন্য সরঞ্জাম কেনার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবে।ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫০০০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা ও অন্য সরঞ্জাম কেনার কথা সৌদি আরবের।