শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:২১

দাপটে সিরিজ বিজয় আনলো বাংলাদেশ

দাপটে সিরিজ বিজয় আনলো বাংলাদেশ

গ্যালারী থেকে: প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে অধিনায়ক বলেই ফেলেছিলেন মনের কথাটা, সিরিজ জয়ের জন্য শেষ ম্যাচের অপেক্ষায় থাকতে চান না তিনি। মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচে মুশফিকের ইচ্ছে পূরণ করলো বাংলাদেশ দল। মাঠের সব বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে ৪০ রানে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচটিকে তারা বানিয়ে দিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা। এটি বাংলাদেশের ১৫তম দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ জয়। আর দেশের মাটিতে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জিতলো মুশফিকরা। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

অতিথিদের সামনে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে মোটামুটি এই সংগ্রহ তাড়া করতে গিয়ে ৪৬ ওভার ৪ বলে ২০৭ রানে অলআউট নিউ জিল্যান্ড। ২০১০ সালের পর আবার অতিথিদের সামনে তাই সব ম্যাচে পরাজয়ের শঙ্কা। ম্যাচের স্কোরকার্ড বিভিন্ন সময়ে যাই বলুক, ব্যাট করতে নেমে কখনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। নিয়মিত উইকেট নিয়ে সব সময়ই তাদের চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই যার পথ দেখিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

কৌতুক করেই বলেছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ‘এবার আর ৪-০ হবে না।’ গতবার এই বাংলাদেশ সফরেই ৪-০তে ধবলধোলাই হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। যেটি ক্রিকেটে ‘বাংলাওয়াশ’ নামে সুখ্যাত। এবার অবশ্য সিরিজের তিনটি ম্যাচ বলে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মজা করেই বলেছিলেন কথাটা। তবে ৪-০ না হোক, ৩-০ তো হতেই পারে! আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটিও ৪০ রানে জিতে সেই সম্ভাবনা জাগাল বাংলাদেশ।

প্রথমে ব্যাট করে তামিম ইকবালের ফিফটির সুবাদে ২৪৭ রান করা বাংলাদেশ আজ নিউজিল্যান্ডকে আটকে দিয়েছে ২০৭ রানে। তিনটি করে উইকেট নিয়ে বোলিংয়ে বাংলাদেশের নায়ক সোহাগ গাজী ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুরুটা মাশরাফিই করেছিলেন। ১ রানে কিউই ওপেনার হামিশ রাদারফোর্ডকে বোল্ড করে। টিম সাউদির স্টাম্প উপড়ে ফেলে শেষটাও করলেন মাশরাফিই। মাশরাফি রাদারফোর্ডকে ফেরানোর পরপরই সোহাগ আর রাজ্জাক জোড়া আঘাত হানলে মাত্র ৩৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশি বোলারদের ভালোই ভোগাচ্ছিলেন টেলর আর কোরি অ্যান্ডারসন। ২৭তম ওভারে এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছেন মাশরাফিই। উইকেটের পেছনে দারুণ এক ক্যাচ নিয়েছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

দেশসেরা এই পেসারের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন হামিশ রাদারফোর্ড (১)। অ্যান্টন ডেভসিচ ও গ্র্যান্ট এলিয়টের ৪০ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভেঙ্গে দৃশ্যপটে আসেন স্পিনাররা। ১৩তম ওভারের শেষ বলে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ডেভসিচকে (১৯) ফেরত পাঠান অফস্পিনার সোহাগ গাজী।  পরের ওভারের প্রথম বলে বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এলিয়টকে। চতুর্থ উইকেটে কোরি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে রস টেইলরের ৬১ রানের জুটি ভাঙ্গেন মাশরাফি। তবে এতে বড় অবদান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের। অ্যান্ডারসনের (৩৭) ব্যাটের কানায় লেগে বল প্রথম স্লিপের দিকে যাওয়ার সময় বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্লাভসবন্দী করেন তিনি।

টেইলরের সঙ্গে অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের জুটি স্বাগতিকদের স্বপ্ন ভঙ্গের হুমকি হয়ে ওঠার আগেই ভেঙে দেন মুমিনুল হক। ম্যাককালামকে (১৪) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে অতিথিদের বিশাল এক ধাক্কা দেন বাঁহাতি এই স্পিনার। পরের ওভারেই টম ল্যাথামের (০) রান-আউট বিপদ আরো বাড়ায়। পাওয়ার প্লেতে জেমস নিশামকে নাঈম আর বিপজ্জনক টেইলরকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যাচে পরিণত করে বাংলাদেশের জয়কে সময়ের ব্যাপারে পরিণত করেন সোহাগ। এরপরও চেষ্টা করেছিলেন নাথান ম্যাককালাম ও কাইল মিলস। মুমিনুল নাথানকে (২৫) মাহমুদুল্লাহর ক্যাচে পরিণত করার পর লড়াই চালিয়ে যান মিলস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৯ ওভারে ২৪৭ (তামিম ৫৮, শামসুর ২৫, মুমিনুল ৩১, মুশফিক ৩১, নাঈম ১৬, নাসির ৩, মাহমুদুল্লাহ ২১, সোহাগ ২৬, মাশরাফি ১৪, রাজ্জাক ৪*, রুবেল ২; অ্যান্ডারসন ৪/৪০, নিশাম ৪/৫৩, নাথান ১/৪২, মিলস ১/৪৭)

নিউ জিল্যান্ড: ৪৬.৪ ওভারে ২০৭ (ডেভসিচ ১৯, রাদারফোর্ড ১, এলিয়ট ১৪, টেইলর ৪৫, অ্যান্ডারসন ৩৭, ব্রেন্ডন ১৪, ল্যাথাম ০, নিশাম ৮, নাথান ২৫, মিলস ২৭*, সাউদি ০; সোহাগ ৩/৩৪, মাশরাফি ৩/৪৩, মুমিনুল ২/১৩, রাজ্জাক ১/৩৫)

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সোহাগ গাজী

বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ও সোহাগ তিনটি করে উইকেট নেন। এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ ওভারে ২৪৭ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত শামসুর রহমানের সঙ্গে তামিম ইকবালের ৬৩ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে ভালো সূচনা এনে দিলেও রানের গতি ছিল ধীর। এনামুল হকের জায়গায় খেলতে নেমে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন শামসুর। রান রেটের চাপে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে নাথান ম্যাককালামের বলে শামসুর (২৫) স্টাম্পিং হয়ে গেলে ভাঙে ১০১ বল স্থায়ী জুটি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026