শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সিরিয়ার ফার্স্ট লেডি আসমা আল আসাদ স্বামীর পাশেই থাকবেন। সন্তানসহ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তাকে।
কিন্তু সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এসব কথা তিনি রাশিয়ান একটি টিভি নেটওয়ার্ককে বলেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
এতে বলা হয়েছে, বৃটিশ বংশোদ্ভূত আসমাকে সিরিয়া ছেড়ে গেলে সুরক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তিনি তার কোনোটিতে রাজি হন নি। মঙ্গলবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে আসমা আল আসাদের সাক্ষাতকারটি প্রকাশিত হয়েছে।
এতে তিনি বলেছেন, হ্যাঁ, আমাকে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। আমি পালিয়ে গেলে এদেশের মানুষের কি হবে সে কথা চিন্তা করে পাই নি। যদি সন্তানদের নিয়ে এভাবে দেশ ছেড়ে যাই তাহলে এদেশের মানুষ তাদের প্রেসিডেন্টের ওপর থেকে আস্থা হারাবে। আসমা আল আসাদের এখন বয়স ৪১ বছর। তার রয়েছে তিনটি সন্তান।
তিনি বলেন, আমি শুরু থেকেই সিরিয়ায় আছি। এখান থেকে অন্য কোথাও কখনও যাওয়ার কথা ভাবি নি।
প্রায় ৫ বছর আগে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আসমা আল আসাদকে মাঝে মাঝেই বৃটেনের গ্লামার ও যতœশীল প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে তুলনা করা হতো। তাকে দেখা যেতো ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে। কখনো দেখা যেতো যুদ্ধের শিকার শিশুদের বিছানার পাশে। বিভিন্ন স্থানে তাকে দেখা যেতো নারীদের সঙ্গে ঘুরতে।
এসব কারণে ২০১১ সালে ‘ভৌগ’ ম্যাগাজিনে তার জীবনী ভিত্তিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে আসমা আল আসাদকে ‘রোজ অব দ্য ডেজার্ট’ বা মরুভূমির গোলাপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে তার নিজের দেশে যে পরিমাণে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে ওই প্রতিবেদনে তার কোনো উল্লেখ ছিল না। এ জন্য মিডিয়ায় বিস্তর সমালোচনা হয়। পরে ভৌগ তার ওয়েবসাইট থেকে ওই রিপোর্টটি প্রত্যাহার করে।
উল্লেখ্য, আসমা আল আসাদের জন্ম লন্ডনে। তার পিতা সিরিয়ার কার্ডিওলজিস্ট ফাওয়াজ আখরাস ও মা সাহার ওতরি। তার মা সিরিয়া দূতাবাসের একজন কূটনীতিক ছিলেন। ওয়েস্ট লন্ডনে বড় হন আসমা। সেখানে তার নাম আসমা আল আখরাস।
তিনি কিংস কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্ন ও ফরাসি সাহিত্যে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর তিন বছর তিনি বায়োটেকনোলজি ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে আর্থিক খাতে চাকরি করেন।