বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ১০:১৭

ঈদে তিনবেলার সাজ

এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শর্মী চক্রবর্তী : ঈদের আনন্দের একটা বিশেষ অংশ হচ্ছে সাজসজ্জা। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে তো এর কোন কথাই নেই। ঈদ আসতে না আসতেই তারা নিজেদেরকে আকষর্ণীর করে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।

ঈদ উৎসবকে আনন্দময় করতে মনের পাশাপাশি বাহিরের চাকচিক্যও ফুটিয়ে তুলার কাজে ব্যস্ত হয় সব বয়সীরাই। আর এ প্রস্তুতি শুরু হয় রমজানের শুরু থেকেই। বিউটিশিয়ানরাও এ ব্যাপারে বলে থাকেন যে, একটু আগে থেকে নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য পরিচর্যা শুরু করলে অনুষ্ঠানের দিন দেখতে ভাল লাগবে। শুধু মুখের লাবণ্যতাই নয় এর সঙ্গে পোশাকের বৈচিত্র্যতার দিকেও নজর দিচ্ছে সবাই। আর এ সময়টা হচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের সময়। এ সময় আবহাওয়া একেক সময় একেক রূপ ধারণ করে। এ অবস্থায় মেকাপ কিভাবে করতে হবে তা নিয়ে ভাবছে সবাই। তবে ঈদের দিন থেকে নিজেকে সুন্দর ও আকষর্ণীয় করে তুলতে আগেই কিছু কাজ করে রাখা দরকার। আর এগুলো হলো ফেইসিয়াল, চুলকাট, মেনিকিউর পেডিকিউর, ভ্রু ফ্লাক আগে করে ফেলা ভাল। এতে করে সৌন্দর্যটা ফুটে ওঠে খুব ভালভাবে। এর পর ঈদের মেকাপ। বিভিন্ন ধাপে মেকাপ করলে ভাল দেখাবে কারণ, একেক সময় একেক ভাবে উপস্থাপন করলে দেখতে অনেক ভাল লাগে। এতে করে প্রিয় মানুষের আরও প্রিয় হয়ে ওঠা যায়।

এ বিষয়ে বিউটি এক্সপার্টরা কিভাবে ঈদে সাজলে ভাল হয় তা জানান- শত ব্যস্ততার মধ্যেও একটু খানি সাজের ছোঁয়া আরও সুন্দর করতে পারে। মনের সৌন্দর্যের সঙ্গে বহিরঙ্গের সৌন্দর্যের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। মানানসই সাজেই প্রকাশ পায় ব্যক্তিত্ব। কর্মব্যস্ত মেয়েদের চটজলদি সাজের কিছু বিষয় হলো- সাজ শুরু করার আগে মুখটা ভাল করে ফেস ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিন। মুখে ও গলায় একটু ভারি করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। গরমের জন্য ওয়াটার প্রুফ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন শীতকালের জন্য তরল ফাউন্ডেশন ভাল। নিখুঁত মুখের মসৃণ ত্বক প্রসাধনের মূল ভিত্তি। কারও ত্বক প্রাকৃতিক ভাবেই মসৃণ থাকে আবার কারও তৈরি করে নিতে হয়।

ঈদের দিনে সাজতে হয় দু’ভাবে। সকালের মেকআপ বেশি ভারি হওয়া ঠিক নয়। সকালটা হলো স্নিগ্ধ সময়, এর সাজও হতে হবে স্নিগ্ধ। চোখে লাগিয়ে নিতে পারেন গাঢ় কাজল। গাঢ় কাজল আপনার চেহারায় এনে দেবে সকালের সতেজতা। চোখে আইলাইনারের রেখা আর আলতো করে চোখের পাতায় মাস্কারার প্রলেপ দিন। ঠোঁটে দিন হালকা রঙের লিপস্টিক। পোশাকের সঙ্গে কালার ঠিক রেখে পরতে পারেন কপালে ছোট্ট একটা টিপ। একটি সকালের বা সারা দিনের অন্যটি সন্ধ্যায় বেড়াতে যাওয়ার সাজ।

সকালে  ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে হাল্কা ফেস পাউডার লাগান।  চোখে থাকুক হাল্কা কাজলের ছোঁয়া। গালে ন্যাচারাল কালারের ব্লাশার। ঠোঁটে একচিমটি গ্লস। দুপুরের দাওয়াতে মেকআপ হবে হাল্কা। ব্যবহার করুন হাল্কা ফেস পাউডার, ত্বকের রঙ ঘেষা আই শ্যাডো, বাদামি বা কালো কাজলের বা পেন্সিলের রেখা। ঠোঁটে ন্যুড লিপস্টিক বা লিপগ্লস। সকালের চাইতে দুপুরের সাজ আরও বেশি দীপ্তিমান হতে হবে। দুপুরের আলোকিত সময়ে প্রসাধনের রঙ উজ্জ্বল হতে হবে। চোখে গাঢ় করে কাজল দিতে পারেন আর লিপস্টিক হতে পারে একটু ডিপ কালারের। গালে বুলিয়ে নিতে পারেন কিছুটা চকচকে রোজ পাউডার, লাগিয়ে নিতে পারেন চোখের উপরে পোশাকের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে আই শেড বা কালার পেন্সিল। এ সাজে আপনাকে দেখাবে উজ্জ্বল এবং দীপ্তিময়। সারাদিন বেড়ানো কিংবা মেহমানদারির পর আপনি কিছুটা ক্লান্ত। রাতে দাওয়াতে যেতে হবে। তাই ক্লান্তি দূর করার জন্য আপনার ত্বকের টোনিং প্রয়োজন।

মেকাপের আগে ত্বকের বাড়তি তেল দূর করার জন্য সারা মুখে শসার পাতলা টুকরা দিয়ে নিন। চোখের উপরে রাখুন কুরোনো আলু-যাতে চোখের নিচে আসে সজীবতা। শসার রস অ্যাস্ট্রিনজেন্টের কাজ করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে টমেটো স্লাইচও ব্যবহার করতে পারেন। টমেটো আর্দ্রতা ধরে রাখে ও টোনিংয়ের কাজ করে। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীর ডিমের হলুদ অংশ মুখে লাগালেও নিমেষে মুখের ক্লান্তির ছাপ মুছে যাবে। আপনার ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র অনুযায়ী বেছে নিন প্রসাধনীর রং। পোশাকের সঙ্গে মেকাপের সবদিকে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। আপনি যদি দেশীয় পোশাক পরেন তাহলে মেকাপের ধরন যেমন হবে একরকম তেমনটি হবে না যদি আপনি পশ্চিমী পোশাক পরেন।

সন্ধ্যার সাজ : সারা দিনের সাজের ঠিক বিপরীত হবে সন্ধ্যার। সন্ধ্যার সাজ হতে হবে গাঢ় এবং ভারি। মুখে একটু পুরো করে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে ফেইস পাউডার বা নরমাল সাদা পাউডার লাগিয়ে নিন। এতে করে আপনার ত্বকের কোন দাগ চোখে পরবে না। চোখের উপরে মোটা করে আইলাইনার আর চোখের নিচেও টেনে দিতে পারেন মোটা করে কাজল। ঠোঁটে দিন গ্লস লিপস্টিক। সন্ধ্যার সাজে গ্লস লিপস্টিক একটা আলাদা আভিজাত্য। গালে লাগিয়ে নিন ব্লাসন ডিপ করে। সময়োপযোগী সাজ আপনাকে দারুণ দেখাবে। সব বয়সেরই একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। সাজ শুধু সময়োপযোগীই নয় বয়স উপযোগীও হতে হবে। তবে ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতে বেশি করে পানি পান করুন। প্রয়োজনে আপনার হ্যান্ড ব্যাগে রাখতে পারেন বিশুদ্ধ পানি। কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও পানি পান আপনাকে অনেকটাই সতেজ করবে। তবে খাবারে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। যেভাবে করবেন মেকাপ বেইজ : আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় তাহলে আপনি ওয়াটার এবং পাউডার বেইজড মেকআপ ব্যবহার করুন। আর ত্বক যদি শুষ্ক হয় তাহলে ক্রিম বেইজ মেকাপই ভাল। যদি আপনি গ্লসিভাব পছন্দ না করেন তাহলে ময়েশ্চারাইজড ফাউন্ডেশন ও কম্প্যাক্ট ব্যবহার পর পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

ভ্রু : ভ্রুআঁকতে কালো ও ব্রাউন মিসজ শ্যাডোর আশ্রয় নিন। ব্রাউন আই ভ্র পেন্সিল দিয়ে মুখের আদল বুঝে হাল্কা হাতে ভ্রƒর শেপ করে নিন। তারপর ব্রাশের সাহায্যে ভরাট করে দিন।

চোখের সাজ:

প্রথম স্তর : ভ্রুর নিচে হাড়ের উপরে লাগান রুপালি কিংবা সোনালী হাইলাইটার। এই হাইলাইট ভ্রƒর হাড়কে উঁচু দেখাতে সাহায্য করে। চোখের পাতার উপর ব্যবহার করুন আইশ্যাডো। নাকের কাছে কোন থেকে অন্য  কোন পর্যন্ত পুরো পাতার উপরেই দিবেন আইশ্যাডো। আইশ্যাডো পোশাক অনুযায়ী হতে পারে কিংবা কন্ট্রাষ্ট, স্মোকি বা দুই/তিন শেডের হতে পারে। তবে পাপড়ির ওপরে থাকবে সবচেয়ে গাঢ় শেড এবং ক্রমান্বয়ে তা উপরের দিকে হাল্কা হয়ে ব্লেন্ড হবে। তবে মনে রাখতে হবে- সব শেডই যেন ঠিক মতো মিশে থাকে অর্থাৎ যেন মনে হয় একটি শেড থেকেই অন্যটির উদ্ভব।

দ্বিতীয় স্তর : চোখের মেকআপ পরিপূর্ণ করার জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা দরকার। পেন্সিল দিয়ে রেখা টানার পর আঙ্গুলের সাহায্যে সেটি মিশিয়ে দিন। কাজল হিসেবে পেন্সিল চোখের নিচের পাতায় ব্যবহার করুন। গাঢ় কোন শেড দিয়ে তা ব্লেন্ড করে দিন যাতে দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়। আপনি চাইলে চোখের ওপরের পাতা বরাবরও লাগাতে পারেন অন্য কালারের কেক আই লাইনার। এতে আই লাইনারের তেমন কড়া এফেক্ট আসে না। বেশ একটা মসৃণ ভাব আসে। চোখের মেকাপের ক্ষেত্রে দিনের ও রাতের প্রসাধনে তফাৎ থাকে। দিনের মেকআপ করুন ত্বকের রঙ ঘেষা আইশ্যাডো, বাদামি বা কালো কাজল বা পেন্সিলের রেখা। রাতের মেকআপে পোশাক অনুযায়ী আইশ্যাডো হাইলাইটার নীল বা কালো লাইনারের রেখা। চোখের কোণে অনেক সময় নাটকীয় চমক আনতে আইশ্যাডোর রেখা টানতে পারেন। আইশ্যাডো ব্রাশের ডগা দিয়ে পছন্দসই রঙের শ্যাডোর রেখা টানুন চোখের বাইরের কোন থেকে ভেতরের কোনে।

তৃতীয় স্তর : রাতের অনুষ্ঠানের আরও আকর্ষক করে তুলতে মাসকারার ব্যবহার খুবই জরুরি। মাসকারা সব সময়  চোখের পাতার গোড়া থেকে আগা অবধি লাগাতে হয়। চোখের পাতা ঘন দেখাতে প্রথমে এককোট মাসকারা লাগান। এরপর শুকিয়ে গেলে আর এককোট লাগান।

ব্লাশার : ব্লাশার যেমন আপনার ত্বকে আনে রঙের ছোঁয়া, তেমনি মুখের হাড়ের গড়ন সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে গোলমুখ লম্বা করতে এবং গাল ভাঙা মুখও ভরাট দেখায়। ব্লাশার ব্যবহার করার সময় খেয়াল করবেন ব্লাশ-অনের রঙটি যেমন আপনার পোশাক, লিপস্টিক, আইশ্যাডোর রঙের সঙ্গে মানানসই হয়। ব্লাশার লাগাবেন ব্লাশার ব্রাশ দিয়ে। ক্রিম ব্লাশার লাগাতে হবে আঙুলের ডগা দিয়ে, লিকুইড মেকআপ লাগানোর পরে এবং অবশ্যই ফেস পাউডার লাগানোর আগে। যদি আপনার ডিম্বাকৃতি আকারের মুখ হয় তাহলে হাড়ের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় ব্লাশ-অন লাগিয়ে মিলিয়ে দিন রগের দিকে। যদি গোলমুখ হয় তাহলে ব্লাশার লাগানোর সময় এমনভাবে লাগাতে হবে যাতে ব্রাশের টানটি চোয়ালের হাড় থেকে গালের ওপরদিকে উঠে  যায়। থুঁতনির এক কেন্দ্রে সামান্য একটু ব্লাশারের বিন্দু লাগিয়ে ঘষে দিন। গড়ন কিছুটা লম্বা  দেখাবে। চৌকোনা মুখে ব্লাশার লাগাবে চোয়ালের দুই পাশ থেকে গালের মাঝখান বরাবর। এককোট গাঢ় ব্লাশার কিংবা ডার্ক প্যানকেক দিয়ে কানের লতি থেকে চিবুক বরাবর চোয়ালের হাড়ের একটু উপরেও একটু নিচে ব্রাশ করলে  চৌকোণা ভাব কিছুটা কমে। ভারি গালের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। নাকের চওড়া পাটা উঁচু দেখাতে নাকের দু’ধারে গাঢ় রঙের ফাউন্ডেশন লাগিয়ে হাতের উপরের দিকের টানে মিলিয়ে দিতে হবে। নাকের উপরের অংশে অর্থাৎ নাকের মাঝখানের হাড়ে হাল্কা রঙের ফাউন্ডেশন লাগান।

লিপস্টিক : লিপস্টিক লাগানোর আগে লিপব্রাশ দিয়ে বা লিপ পেন্সিল দিয়ে ঠোঁটের চারধারে আউটলাইন এঁকে নিন। লিপব্রাশে লিপস্টিক দিয়ে ভেতরটা ভরাট করে নিন। সবশেষে পারফিউম ছড়িয়ে নিন। সুরভিত, সুসজ্জিত আপনি হয়ে উঠুন আকর্ষক, অনন্যা। কথায় বলে লেপলে ঘর সাজলে বর। তাই সাজের ব্যাপারটাই সবাই একটু আলাদা সময় বের করে চলে। এ ক্ষেত্রে মেয়েদের সাজ খুব সাধারণ ব্যাপার। প্রাচীনকাল থেকেই সাজের ব্যাপারে তারা সচেতন।

যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাজের ধরনও পাল্টিয়েছে, পাল্টিয়েছে মানুষের পছন্দ অপছন্দও। বর্তমানে মেয়েদের সাজে এসেছে আধুনিকতার ছাপ। শত ব্যস্ততার মাঝেও একটু খানি সাজের ছোঁয়া আপনাকে আরও সুন্দর করতে পারে। মনের সৌন্দর্যের সঙ্গে সাজের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। সাজেই প্রকাশ পায় ব্যক্তিত্ব। কর্ম ব্যস্ত মেয়েদে র চটজলদি সাজের কিছু বিষয় হলো- সাজ শুরু করার আগে মুখটা ভালো করে ফেস ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিন। মুখে ও গলায় একটু ভারি করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। গরমের জন্য স্তিক ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন শীতকালের জন্য তরল ফাউন্ডেশন ভাল। নিখুঁত মুখের মসৃণ ত্বক প্রসাধনের মূল ভিত্তি। কারও ত্বক প্রাকৃতিক ভাবেই মসৃণ থাকে আবার কারও তৈরি করে নিতে হয়।

 


এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com