বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫৯

যুক্তরাষ্ট্র কেন এত যুদ্ধংদেহী

যুক্তরাষ্ট্র কেন এত যুদ্ধংদেহী

এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ২৩৪ বছর আগে জন্মের পর থেকে এ পর্যন্ত ছোট-বড় ৭০টি যুদ্ধে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরেকটি যুদ্ধে নামার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে যেকোনো সময় হামলা হতে পারে সিরিয়ায়। নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও কেন বারবার যুদ্ধে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র? অনেকেই বলেন, এই পরাশক্তিটি যুদ্ধ ছাড়া থাকতে পারে না।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের অভিযোগ, ২১ আগস্ট রাজধানী দামেস্কের অদূরে সেনাবাহিনী রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা চালিয়েছে। এতে শিশুসহ অন্তত তিন শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তিন সহস্রাধিক। দেশটির সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিরপেক্ষ অন্য কোনো সূত্র থেকে এ অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

সত্যিই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দল তদন্তকাজ করছে। কিন্তু তার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলে দিয়েছেন, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য সিরিয়ার সরকারই দায়ী। বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের আগেই তাড়াহুড়ো করে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ঠিক হবে না বলে অনেকেই মত দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বিচারক সেজে রায় দিয়ে দিয়েছে, তদন্তকারীরা সিরিয়ার সরকারকেই দায়ী করবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল মঙ্গলবার বিবিসিকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্দেশের অপেক্ষায় মার্কিন সেনারা। তারা সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত। ওবামার নির্দেশ বাস্তবায়নে আমরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জায়গামতো রেখেছি। অতীতে বিভিন্ন যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ব্যর্থতা লক্ষ্য করা গেছে। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তারা ইরাকে হামলা চালিয়েছে। পরে ইরাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সাদ্দাম হোসেনের গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি। এখন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তি দেখাচ্ছে, সিরিয়ার বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। নেতৃত্ব উত্খাত নয়, বরং বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার থেকে দামেস্ককে বিরত রাখতেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এই ব্যবস্থা হবে স্বল্প-মাত্রার এবং এটা কোনো যুদ্ধ নয়। দেশের ভেতরে ও বাইরে বহু কাল ধরেই একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে—যুদ্ধ ছাড়া থাকতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। সংগত কারণেই ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে যুদ্ধ বিভাগ বলে ডাকা হতো।

ইরাক থেকে লেজ গুটিয়ে এসেছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে ধারাবাহিকভাবে প্রাণ যাচ্ছে মার্কিন সেনাদের। এখন উল্টো তালেবানদের সঙ্গে শান্তি-আলোচনা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৪ সালে সে দেশ থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে আবার যুদ্ধের দামামা। সিরিয়ায় হামলার তোড়জোড় যুক্তরাষ্ট্রের চরিত্রের সেই পুরোনো কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রবণতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে দুই দশক আগে প্রথম গালফ যুদ্ধের সময় মার্কিন কিংবদন্তি কমেডিয়ান জর্জ কার্লিন বলেছেন, আমরা যুদ্ধ পছন্দ করি। এতেই আমরা ভালো থাকি।

এ প্রসঙ্গে জর্জ কার্লিন আরও বলেন, আমরা ভালো গাড়ি বানাতে পারি না। টেলিভিশন বানাতে পারি না। শিশুদের সুশিক্ষা দিতে পারি না। বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারি না। কিন্তু যেকোনো দেশে ভালো বোমা ফেলতে পারি।

ইরাক যুদ্ধের সময় বিশিষ্ট মার্কিন ব্যবসা-বোদ্ধা পল ফ্যারেল বলেছিলেন, আমেরিকার অর্থনীতি হলো যুদ্ধের অর্থনীতি। শিল্প অর্থনীতি নয়। কৃষি অর্থনীতি নয়। সেবার অর্থনীতি নয়। এমনকি ভোক্তার অর্থনীতিও নয়। আসলে আমাদের মনের গভীরে যুদ্ধের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। আমরা যুদ্ধ চাই। যুদ্ধ দরকার। যুদ্ধ উপভোগ করি। যুদ্ধে সমৃদ্ধ হই। যুদ্ধ আমাদের জিনে। আমাদের ডিএনএতে। যুদ্ধ আমাদের অর্থনীতিকে আন্দোলিত করে। আমাদের উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করে। আমেরিকানদের চিত্তকে রোমাঞ্চিত করে। এটা স্বীকার করো। যুদ্ধের সঙ্গে আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক। আর এসব কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি যুদ্ধে নামছে। এবার লক্ষ্য সিরিয়া।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে।


এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com