মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩৭

পরিবর্তনের চেষ্টায় ড. ইউনূস

পরিবর্তনের চেষ্টায় ড. ইউনূস

এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ জুড়ে: গার্মেন্ট খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার এ উদ্যোগের নেতৃত্বে থাকছে জার্মানি। জড়িত রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থা। তার এ উদ্যোগের নাম দিয়েছেন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ট্রান্সপারেন্সি ইনডেক্স (জিআইটিআই)। অর্থাৎ গার্মেন্ট শিল্পে স্বচ্ছতার সূচক।

কোন কোন গার্মেন্ট কারখানা যথাযথ নিয়মকানুন মেনে চলছে, বিশেষ করে অগ্নিনিরাপত্তা, শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা, নারীদের প্রতি আচরণ, মূলনীতি, মান, মেনে চলার নীতি, সদস্যপদ, জরিমানা, তদারক, বৈধতার বিষয় কতটা মেনে চলছে তার ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হবে।

সমপ্রতি ওমেন’স উইয়্যার ডেইলি (ডব্লিউডব্লিউডি)-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেছেন। ওই সাক্ষাৎকারের শিরোনাম ‘ইউনূস প্রেসেস ফর চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ’। অর্থাৎ বাংলাদেশে পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন ইউনূস। দীর্ঘ এ সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, এক্সট্রাকটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ (ইআইটিআই) নামের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আদলে আমরা জিআইটিআই সৃষ্টি করছি।

আমরা আশা করি, এর সঙ্গে যুক্ত হবে সরকার, শিল্প কারখানার প্রতিনিধি, শ্রমিক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মতো সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ড. ইউনূস বলেন, আমি এ বিষয়ে প্রস্তাব করার পরই জার্মানি এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে রাজি হয়ে যায়। এ উদ্যোগের মূল সভা হবে অক্টোবরে। গার্মেন্ট শিল্পের সামান্য অংশই জানে সরকার ও ক্রেতারা। এর আসল চিত্র তাদের কাছে অজানা। তাই আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব কিছুই তাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

ডব্লিউডব্লিউডি তার কাছে জানতে চায়- সামাজিক সমস্যা সমাধানের মূলনীতির ধারণা দেয়ার ক্ষেত্রে আপনি পথপ্রদর্শক। আপনি কি বাংলাদেশে তৈরী পোশাক কারখানার সমস্যা সমাধানের জন্য কোন পরিকল্পনা করছেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা একটি সামাজিক বাণিজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনা করছি। একে চেনা যাবে ‘হ্যাপি ওয়ার্কার্স’ নামে। এটা করা হবে একটি সামাজিক বাণিজ্যের মাধ্যমে।

তৈরী পোশাকের ক্রেতাকে বলা হবে তারা যে পরিমাণ অর্থের পোশাক কিনছে তাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে শতকরা ১০ ভাগ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তারা যদি প্রতিটি ১০ ডলার দামের ১০ লাখ শার্টের অর্ডার দেয় তাহলে এ প্রক্রিয়ায় ১০ লাখ শার্ট থেকে এক ডলার করে মোট ১০ লাখ ডলার আসবে ‘হ্যাপি ওয়ার্কার্স’-এ। এ অর্থ ক্রেতার পকেট থেকে দিতে হবে না। ক্রেতারা যখন তার দেশে নিয়ে এ পোশাক ভোক্তার হাতে তুলে দেবেন তখন যদি তারা তাদের বুঝিয়ে বলেন, গার্মেন্টের শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়নে তারা ১০ ডলারের একটি শার্টে এক ডলার বেশি নিচ্ছেন। এই এক ডলার সরাসরি চলে যাচ্ছে তাদের উন্নয়ন খাতে। এমনটা বোঝানো হলে ভোক্তা এক ডলার বেশি দিতে কার্পণ্য করবেন না। এর মাধ্যমে গার্মেন্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ইনস্যুরেন্স, মাতৃমঙ্গল, শিশুর শিক্ষা, গৃহায়নে সহায়তা সহ অনেক কিছু করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ নেয়া হলে যে ক্রেতা সংস্থা এমন মান মেনে কাজ করবেন আন্তর্জাতিক বাজারে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। তা দেখে অন্য অনেক ক্রেতা এগিয়ে আসবেন। এ কর্মসূচি শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তৈরী পোশাক উৎপাদন করে এমন দেশগুলোতে এ কর্মসূচি নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রাম থেকে আসা নারীদের আমরা ক্ষমতায়িত করে বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত ও শক্তিশালী রাখতে পারি। এসব নারী দারিদ্র্য থেকে কাজের জন্য কারখানায় ছুটে এসেছেন। পরিবার থেকে তারা স্বাধীনভাবে বসবাস করছেন শহরে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জীবন পাল্টে যাচ্ছে। তারা নিজেরা অর্থ উপার্জন করছেন এবং শক্তিশালী করছেন অর্থনীতিকে। এর প্রতিটি বিষয়ই সমাজের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এতে ধীর গতিতে তবে সুষম গতিতে পরিবর্তন হচ্ছে। এখন নারীরা মুক্ত। এর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন বাংলাদেশ।

ড. ইউনূস বলেন, এখন কেউ আর স্লেভ লেবার অথবা শিশু শ্রমিক অথবা সোয়েটশপে তৈরী পোশাক কেউ পরতে চান না। শ্রমিকদের অবস্থা লুকানোর মতো কোন অবস্থা নেই। আমরা চাই অল্প সংখ্যক কারখানা নেতৃত্বে এগিয়ে আসুন এবং আদর্শ স্থাপন করুন। একবার যখন এ ধারা শুরু হয়ে যাবে তখন এর গতি হবে দ্রুততর। আমাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড দাঁড় করাতে হবে। আমাদের সবাইকে দেখতে হবে অর্থনীতি যেন রাজনীতির শিকার না হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সবাই সজাগ। বিশেষ করে যারা হরতাল বা ধর্মঘট করেন তারাও সজাগ। বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রীয় অংশ হলো গার্মেন্ট শিল্প। কিছুদিন আগেও এই গার্মেন্ট ছিল সীমিত অথবা এর অস্তিত্বই ছিল না। কিন্তু এখন বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশীদের জন্য কি আনন্দের কথা! কি সুন্দর অর্জন আমাদের! আমাদেরকে এ শিল্পকে রক্ষা করতেই হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com