দুনিয়া জুড়ে নিউজ: সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত এমন দেশের সংখ্যা দ্বিতীয় অংকের ঘরে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। চারদিনের ইউরোপ সফররত কেরি শনিবার রাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফ্যাবিয়সের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন।
কেরি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই মুহূর্তে সঙ্কটজনক অধ্যায় অতিক্রম করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স মনে করে নরহত্যার এই সময়ে বিশ্ব দর্শকের ভূমিকায় চুপ থাকতে পারে না। তিনি বলেন, নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর বর্বরতা প্রয়োগকারী আসাদের মতো স্বৈরশাসকদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার এখনই মোক্ষম সময়। কেরি দাবি করেন, সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালাতে এখন অনেক দেশ প্রস্তুত এবং সেটা দ্বিতীয় অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো রোববার সকালে জানিয়েছে, ফ্যাবিয়াসের সঙ্গে কেরির ওই সাক্ষাতে রাসায়নিক অস্ত্র হামলার জবাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করণীয় বিষয়েই আলোচনা হয়েছে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ২১ আগস্টের ওই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় সিরিয়ার এক হাজার ৪২৯ জন নাগরিক নিহত হয়েছে। আর এ জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বাহিনীকেই দায়ী করে আসছে মার্কিন প্রশাসন। অবশ্য, জাতিসংঘের প্রতিবেদনের আগে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
সম্প্রতি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবাগে অনুষ্ঠিত উন্নত ও উন্নয়শীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট জি-২০ সম্মেলনও সিরিয়া বিষয়ে কোনো ধরনের সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল আসাদবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র ও আসাদের মিত্র রাশিয়া। সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদে আশা করছেন, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকেই প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে পারবে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল। তারপরই সিরিয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
অবশ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ দেখার জন্য সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। কারণ, সিরিয়া সামরিক হামলা চালানোর ব্যাপারে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন চেয়েছেন ওবামা। সোমবার সিরিয়ায় হামলা চালানোর প্রস্তাবে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে কংগ্রেসে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করতে যেন আর কখনো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সাহস না করতে পারে তার সতর্কতা হিসেবে ‘সীমিত’ পরিসরে সিরিয়ায় হামলা চালাবে মার্কিন বাহিনী।