সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫০

ফেলানী হত্যার বিচার পাবো কি?

ফেলানী হত্যার বিচার পাবো কি?

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মানবাধিকার ডেস্ক: ফেলানী  হত্যার বিচার নিয়ে ভারতীয় নাটকের পর দেশজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে  দৃষ্টি দিলেই বোঝা যায়। এই ঘটনায় কেবল ফেলানীর পরিবার ক্ষুব্ধ নয়, সংক্ষুব্ধ সরকার তথা বাংলাদেশ।

বিষয়টি  পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। জনগণের প্রত্যাশা,  সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে এ ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে।

বাংলাদেশ-ভারত  সীমান্তে বিভিন্ন অজুহাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা লেগেই আছে। ভারত নিরাপত্তা,  আত্মরক্ষা, অনিচ্ছাকৃত হত্যা ইত্যাদি বিভিন্ন নামে দিনের পর দিন এরকম  ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েই যাচ্ছে।

খুব  কম ক্ষেত্রেই আমাদের সরকার এসব ঘটনার প্রতিবাদ করেছে। উপরন্তু সরকারের  মুখপাত্র বা মন্ত্রীরা এসব ঘটনাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেও অভিহিত করেছে। স্মর্তব্য, ফেলানীকে হত্যা করার পর সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ফেলানী আমাদের দেশের নাগরিক না।

পরে অবশ্য সরকার ফেলানীর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে। ভারতের কাছে এর প্রতিবাদও করেছে।

সেই সাথে বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত কাটাতারে ফেলানীর ঝুলন্ত মৃতদেহ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। তোলপাড় শুরু হয় গণমাধ্যমে। এটাই স্বাভাবিক।

কারণ, কেবল ফেলানীকেই হত্যা করা হয়নি। প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বিদ্যমান সকল আর্ন্তজাতিক আইন ও প্রথাকে। আর্ন্তজাতিক আইনের কোনো বিধানেই ফেলানীর হত্যাকাণ্ডকে বৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না।

আর্ন্তজাতিক চাপে ভারত সরকার অবশেষে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে বাধ্য হয়।

কিন্তু এটি ছিল বিচারের নামে প্রহসনমাত্র। হত্যাকারী যে বাহিনীর সদস্য সে বাহিনীরই নিজস্ব আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার হয়। সেই সাথে আত্মসীকৃত খুনিকে বেকসুর খালাসও দেয়া হয়।এ বিচারের ফলে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অসংখ্য ফেলানীকে হত্যার অনুমোদন পেল। আমরা পেলাম কাটাতারে ঝুলন্ত লাশ।

এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। আমাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবশ্য বিচার যে হয়েছে তাতেই খুশি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অবশ্য সরকারের পক্ষে কিছু করার আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবেন।

ভারতের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এ বিচারকে প্রহসনমুলক বিচার বলেছে। তারা স্বীকার করছে যে বিচারের নামে এখানে অবিচার হয়েছে। যে অজুহাতে ফেলানীকে হত্যা করা হয় তা নিতান্তই অজুহাত। আত্মরক্ষার্থে ফেলানীকে হত্যা করার কোনো যৌক্তিক কারণ তখন বিদ্যামান ছিলনা।

শুধু তাই নয়, হত্যার পর তাকে কাটাতাতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল কয়েক ঘন্টা। এটি সম্পূর্ণভাবে আর্ন্তজাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থি যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য না।

কঠোর নিরাপত্তা বেস্টনির মধ্যে এ বিচার কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না । সরকারএ বিষয়টি আন্র্তজাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থার কাছে তুলে ধরতে পারে।

ফেলানী হত্যাকাণ্ড নিয়ে যদিও আমাদের আর্ন্জজাতিক আদালতে যাওয়ার সুযোগ খুব একটা নাই। কারণ, রোম স্টাটিউট বা আর্ন্তজাতিক ফৌজদারী আদালতের (আইসিসি)  দলিলে ভারত অনুসাক্ষর করেনি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২২টি দেশ এ চুক্তিতে  অনুসাক্ষর করলেও প্রতিবেশি দেশে ভারত এখনো তা করেনি।  তাই আইসিসিতে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তবে , এক্ষেত্রে আমাদের সরকার ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানাতে পারে। ভারত যদি বাংলাদেশের অনুরোধে বা চাপে পড়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে সম্মত হয় তাহলেই বিচার হতে পারে।  এ কাজটি করতে হবে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকারকে।

এছাড়া বাংলাদেশ যদি নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করে সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আদালতে এটির বিচার হতে পারে।

ভারত সরকার সীমান্ত হত্যা বন্ধ করে আর্ন্তজাতিক আইন ও প্রথার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে এটাই কাম্য।

সৌজন্য: বাংলা নিউজ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026