শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। গত ৪ঠা নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে বসে অকস্মাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
এ নিয়ে লেবানন ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। লেবানন দাবি করে সাদ হারিরিকে গৃহবন্দি করে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করেছে সৌদি আরব। তারপর অনেক জল গড়িয়েছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে হারিরি ফিরেছেন দেশে।
এরপর মঙ্গলবার লেবাননের মন্ত্রীপরিষদ বৈঠকে বসে। এতে সিদ্ধান্ত হয় আরব মুলুকের যুদ্ধে জড়িত থাকবে না লেবানন। এরপরই সাদ হারির পদত্যাগপত্র বাতিল করে দেয় মন্ত্রীপরিষদ। ফলে তিনি স্বপদে বহাল হলেন।
উল্লেখ্য, ৪ঠা নভেম্বর জীবনের হুমকি থাকার কথা বলে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন হারিরি। এ জন্য তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দায়ী করেছিলেন। বলেছিলেন, তাদের সঙ্গে রয়েছে সশস্ত্র গ্রুপ হিজবুল্লাহ এবং লেবাননে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ইরান।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এর মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেন নি হারিরি। তবে মঙ্গলবার মন্ত্রীপরিষদ তার পদত্যাগপত্র বাতিল করে দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হারিরি বলেন, তার সরকার আঞ্চলিক সব যুদ্ধ বা সংঘাত থেকে বাইরে থাকবে।
ওই তিন সপ্তাহ সময়ে হারিরিকে সপরিবারে রিয়াদে গৃহবন্দি রাখা হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। ১৯ শে নভেম্বরের আগে রিয়াদ থেকে বের হন নি তিনি। এদিন তিনি প্রথম রিয়াদ থেকে মিশরের রাজধানী কায়রোর উদ্দেশে যাত্রা করেন।
সেখানে সাক্ষাত করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সঙ্গে। পরের দিন ফেরেন নিজের দেশে। ওদিকে সৌদি আরবে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনপীড়ন চলছে তখনই হারিরি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বলা হয়, সৌদি আরবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দমনপীড়নের মূলে রয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। সেখানে নভেম্বরের শুরুর দিকে প্রথম সারির ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।