শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: তীব্র এক উত্তেজনা। চারদিকে শ্বাসরুদ্ধকর এক পরিস্থিতি। ট্রিগারে হাত রেখে বসে আছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
অন্যদিকে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যদি ট্রিগারে চাপ পড়ে যায় তাহলে মুহূর্তে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে শুরু হয়ে যাবে এক ধ্বংসলীলা। সেই যুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে পারমাণনিক, রাসায়নিক ও জীবণু অস্ত্র।
এর ফলে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় মারা যেতে পারেন কোটি কোটি মানুষ। সম্ভবত তার প্রভাবে ব্যাপক আকারে মানুষ মারা যেতে পারেন চীন ও জাপানে। আর বিশ্ব অর্থনীতি! সে তো বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ এক ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। রয়েছে জলবায়ুর ওপর মারাত্মক কুপ্রভাব পড়ার। এমনি এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ২০১৭ সালটি অতিবাহিত করলো বিশ্ব, বিশেষ করে এশিয়া। নতুন বছর দরজায়। ২০১৮ সালে কি সেই ঝুঁকি কমেছে! বিন্দুমাত্রও নয়। ঝুঁকি রয়েই গেছে। উপরন্তু উত্তর কোরিয়া বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করছে সব কিছুতে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন দেশটির নেতারা। সম্প্রতি জাতিসংঘ নতুন করে অবরোধ দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সেই অবরোধকে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া।
একই সঙ্গে তারা একে যুদ্ধের শামিল বলেও উল্লেখ করেছে। সেপ্টেম্বরে বিশাল এক পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। কিম জং উনের প্রশাসন মাটির নিচে ওই পরীক্ষা চালায়। তারা দাবি করে, এটি ছিল হাইড্রোজেন বোমা। তারা ২০১৭ সালে তাদের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে। প্রমাণ করেছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুুক্তির কি পরিমাণে উন্নতি হয়েছে। বলা হয়েছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহন করে নিয়ে বিশ্বের যেকোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়। কিম প্রশাসনের নেতারা বাগাড়াম্বরতা দেখিয়েছে। তারা হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
সরাসরি বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করবে। পরে অবশ্য বলা হয়, গুয়াম থেকে কিছুটা দূরে সেই হামলা হবে। পাল্টা হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওই সময় বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এমন আচরণের ‘আগুনে জবাব’ দেয়া হবে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ভয়ে থর থর করে কাঁপতে থাকে। তাদের মনে এখন হিরোশিমা-নাগাসাকির বীভৎসতা। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্টের গোয়্দো সংস্থা সিআইএ’র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান একটি পূর্বাভাস দেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুদ্ধের আশঙ্কা শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ।
অন্যদিকে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স-এর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড হ্যাস মনে করেন এ ইস্যুতে যুদ্ধের আশঙ্কা ৫০-৫০। তবে এক্ষেত্রে আশাবাদী অন্যরা। তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এখনও একটি যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হয় নি। তারা ব্যাপক পরিমাণে অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করলেও এখনই যুদ্ধে যাওয়ার আশঙ্কা কম।
উত্তর কোরিয়া বলছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, তা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে তাও তারা প্রতিহত করতে পারবে। এসব নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাদের মত দিচেছন।
প্লাউশেয়ারস ফান্ডের জোসেফ কিরিনসিয়ন বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পাশাপাশি অবস্থান করা শিখতে হবে বিশ্বকে। শীতলযুদ্ধকালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে পশ্চিমা দুনিয়া যেভাবে পাশাপাশি অবস্থান করেছিল অনেকটা সেরকমভাবে উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে চলতে হবে।
বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ায় সীমিত সামরিক অভিযানের কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এটা কি আদৌ সত্য নাকি উত্তর কোরিয়াকে ভয় দেখানো তা স্পষ্ট নয়।
তবে পেন্টাগনে যুদ্ধ বিশারদরা বার বারই পরখ করে দেখেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি সীমিত যুদ্ধ কোনো বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ হতে পারে না। এ অবস্থায় কি নতুন বছরে যুদ্ধ হবেই?
দ্য ওয়াল্ড-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক আইজাক স্টোন ফিশ বলেছেন, ২০১৮ সালে আমি যুদ্ধের দিকে যাচ্ছি না। এখানে উল্লেখ্য, স্টোন ফিন হলেন এশিয়া সোসাইটির সিনিয়র ফেলো এবং বিখ্যাত ম্যাগাজিন নিউজউইকের সাবেক বেইজিং প্রতিনিধি।