শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নসহ সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষপটে দেশটির বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, শুধুমাত্র এই বছরের এপ্রিল নাগাদ এই ঋণের পরিমাণ ৯১.৭ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষিতে দেশটির সরকারের উপর ক্রমান্বয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সরকারকে বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে বাজেটে বিপুল পরিমাণ অর্থবরাদ্দ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে বিগত ১৩ বছরের তুলনায় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা মোকাবেলা করে পাকিস্তানের অর্থনীতি ধীরগতিতে কাঙ্খিত ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে। তবে সরকারি দেনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের উপর চাপ থাকায় দেশটি আবারো গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। একই সময় পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আরো ৮.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নেয়া হয়েছে, যা আগের বছরের জুলাইয়ে ছিলো ৭২ বিলিয়ন ডলার। বাকিটা সম্পূর্ণভাবেই ঋণের অপরিশোধিত সুদ হিসেবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়াও সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতির বিবেচনায় মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ ২৮,২৯৭ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপী বা ২৪৫ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে।এই বছরের মার্চ পর্যন্ত এই দেনার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিলো। এটি সরকার দেশটির বেসরকারি খাতের ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বিক্রয় এবং বৈদেশিক ঋণের সমন্বয়ে সংগ্রহ করে।
এদিকে বর্তমান সংকট অব্যাহত থাকলে পাকিস্তানকে ২০১৩ সালের মতো ফের আইএফএম এর কাছে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করে কঠিন শর্তে ঋণ গ্রহণ করতে হতে পারে। এর আগে মার্চ মাসে বিশ্বব্যাংক তাদের একটি রিপোর্টে মধ্যমেয়াদের ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে।
এই হুঁশিয়ারিকে সত্য প্রমাণিত করতেই যেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার বলেছে ঋণের পরিমাণ জাতীয় প্রবৃদ্ধির ৮২.৩ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আসলে ঋণের পরিমাণ জিডিপি’র মাত্র ৬৪ শতাংশ।