শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০২:৪১

ব্রেক্সিট চুক্তির ৯৫ শতাংশই প্রস্তুত: থেরেসা মে

ব্রেক্সিট চুক্তির ৯৫ শতাংশই প্রস্তুত: থেরেসা মে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মনে করেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তির ৯৫ শতাংশ শর্তই চূড়ান্ত করা গেছে।

আর চুক্তির চূড়ান্ত হওয়া না হওয়াটা তার নিজের ভবিষ্যৎ নয় বরং যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। এসব কথা তিনি সোমবার হাউজ অব কমন্সে দেওয়া ভাষণে উল্লেখ করবেন।

হাউজ অব কমন্সের জন্য নির্ধারিত ভাষণের বক্তব্য আগাম প্রকাশের বিষয়টিকে বিরল আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে থেরেসা মের নেতৃত্বাধীন সরকার যেভাবে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে তা নিয়ে গভীর অসন্তোষ বিদ্যমান।

কিন্তু মে এ বিষয়ে সহজের বদলে সঠিককে বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করা নিয়ে এখন আলোচনায় রয়েছে জিব্রাল্টার প্রণালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ। অর্থাৎ ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর জিব্রাল্টারের কী হবে তা নির্ধারণ করা।

মে সংসদ সদস্যদের খুব সম্ভব এ নিয়ে কোনও চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে জানাবেন। তাছাড়া সাইপ্রাসে থাকা ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনার বিষয়েও সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা প্রত্যাশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ ভবিষ্যতে ইইউয়ের সঙ্গে কোনও দ্বিমত হলে তা নিরসনের পদ্ধতি চূড়ান্তের বিষয়েও মের কাছ থেকে আশাবাদী বক্তব্য শুনতে চাইবেন সংশ্লিষ্টরা। কমন্সে দেওয়া ভাষণে এসব কথা উল্লেখ করে মে ব্রেক্সিট চুক্তির অগ্রগতি ব্যাখ্যা করবেন।

তিনি বলবেন সবকিছু মিলিয়ে ৯৫ শতাংশ বিষয়ে ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ২০১৯ সালে ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা।

কিন্তু এর মধ্যে ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করা নিয়ে কয়েকবারই হোঁচট খেয়েছেন থেরেসা মে। ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে দ্বিমতকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস।

তার পরপর ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন প্রস্তাবের শর্তের সঙ্গে একমত হতে না পেরে পদত্যাগ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তার ওপর গত শনিবার ব্রেক্সিট বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় গণভোট চেয়ে যুক্তরাজ্যে সমাবেশ করেছন প্রায় সাত লাখ মানুষ।

ব্রেক্সিটের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের বিষয়টি। যুক্তরাজ্য ও ইইউ দুই পক্ষই আয়ারল্যান্ডের জন্য ব্যাকস্টপ পরিকল্পনায় রাজি।

কিন্তু তা কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়েরয়েছে দ্বিমত।  ব্যাকস্টপ প্ল্যান বলতে বোঝানো হয় দেশ আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অংশ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মধ্যে কোনও হার্ড বর্ডার বাস্তবায়ন না করা।

হার্ড বর্ডার কার্যকর করার অর্থ হচ্ছে দুইটি দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ যাত্রীদের আসা যাওয়া শুল্কের জন্য মালামাল পরীক্ষা ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন ও সেই অনুযায়ী সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাওয়া। আয়ারল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মধ্যে এমন ব্যবস্থাপনা মে ও ইইউয়ের কাছে কাঙ্ক্ষিত নয়।

সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ও ইইউ কর্তৃপক্ষের আরোপ করা ভিন্ন ভিন্ন শুল্ক কীভাবে কার্যকর করা হবে তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। ইইউ প্রস্তাব করেছিল নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জন্য ইইউ অঞ্চলের শুল্ক কার্যকর করার।

কিন্তু থেরেসা মে পাত্তি জানিয়ে বলেছেন সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক অখণ্ডতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে, ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য না পেয়ে থেরেসা মের ওপর অসন্তুষ্ট তার নিজ দলের এমপিরাই।

তার এতটাই অসন্তুষ্ট যে থেরেসা মের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে আবার।  ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করা নিয়ে ওঠা আপত্তিকে ব্যক্তিগত ইস্যু না বানানোর অনুরোধ করেছেন থেরসা মে।

তিনি মনে করেন যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ ও স্বার্থ সংরক্ষিত হবে ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করার মাধ্যমে। এটা তার নিজের তার নিজের ভবিষ্যতের বিষয় নয়।

তার ভাষ্য, ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আলোচনা আমার নিজের জন্য বা আমার ব্যক্তিগত সম্পদের জন্য নয়। তা জাতীয় স্বার্থের বিষয়। তাই সহজ নয় বরং সঠিক সমাধানটি বেছে নিতে হবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026