শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ১০০ বছর হয়ে গেছে। আজকের এই দিনে ১১ নভেম্বরেই শেষ হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ২ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। এদিনেই গোলা ছোড়া বন্ধ করেছিল ইউরোপের কামান। ১৯১৪ থেকে শুরু হয়ে ১৯১৮ সালে শেষ হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
আর এ দিনকে স্মরণ করতে বিশ্বের প্রায় নেতাই উপস্থিত হয়েছেন‘আর্ক দ্য ত্রিয়োম্ফ’ স্মৃতিসৌধের নিচে। প্রথমে এসে দাঁড়ান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। সকাল ১১টা, সারি দিয়ে দাঁড়ালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান ও ইজরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু। এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভারতীয় উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডুও। এদের সবার শেষে এলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শতাব্দি পেরিয়ে গেলেও বিশেষ মুহূর্ত ধরে রাখতেই সবাই এক ছাতার নিচে।
প্রায় ৭০ জন রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতিতে প্যারিসই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ল। এছাড়া বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ শহীদদের স্মরণে দু‘মিনিট নীরবতা পালন ছাড়াও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এদিনটি পালন করেছে।
‘আর্ক দ্য ত্রিয়োম্ফ’ ছিল ‘বিজয়স্তম্ভ’, এখন ‘স্মৃতিসৌধ’। নিজের ‘গ্র্যান্ড আর্মি’র জন্য ১৮০৬ এই স্তম্ভটি তৈরি করেছিলেন নেপোলিয়ন। পরে এখানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত এক অজ্ঞাতপরিচয় সৈনিকের দেহ সমাহিত করা হয়। আজ সেখান থেকেই মাইক হাতে মাকর ‘নয়া যুদ্ধের’ ডাক দিলেন। যুদ্ধটা শান্তি চেয়ে।
বললেন, ‘আসুন, পরস্পরকে ভয় না পেয়ে, বিশ্বাসের একটা যৌথ ভিত্তি গড়ে তুলি।’ দেশাত্মবোধকে, জাতীয়তাবাদের ঠিক উল্টোটা বলে ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
কূটনীতিকদের একাংশের দাবি, এটা ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকেই কটাক্ষ করে। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদিও তাতে বিশেষ আমল দেননি। বরং এই মুহূর্তে ‘জোটবদ্ধ এবং নতুন ইউরোপ’ চাই বলে আর্জি পেশ করলেন ট্রাম্প।
রোববার প্যারিসের অনুষ্ঠানে না–থাকলেও শান্তির পক্ষে বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি টুইট করেন, ‘ভারত সরাসরি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে না–জড়ালেও, অন্যের হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের বাহিনী লড়াই করেছে। দিনটা স্মরণীয়।’
সভাস্থলের দিকে ট্রাম্পের কনভয় যখন ঢুকছে হঠাৎ দেখা গেল, উর্ধ্বাঙ্গ সম্পূর্ণ অনাবৃত করে দুই মহিলা নেমে পড়েছেন মাঝরাস্তায়। তাদের পিঠে লেখা, ‘স্বাগত যুদ্ধাপরাধীরা’। আর বুকে কালো কালিতে— ‘ভুয়ো শান্তিপ্রতিষ্ঠাতা’। তারা ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে এমনটি করেছেন। এতে বোঝা যায় আমেরিকার এখনও বিশ্বের কাছে যুদ্ধবাজ। পরে পুলিশ তাদের আটকায়।
কিন্তু পরে প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায় উড়তে দেখা গেল ‘ট্রাম্প–বেলুন’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরোধিতায় নামল ৫০টিরও বেশি সংগঠন।
এ দিন ‘আর্ক দ্য ত্রিয়োম্ফ’-এ বেশির ভাগ রাষ্ট্রনেতারা একসঙ্গে এলেও, ট্রাম্প আসেন আলাদা। হোয়াইট হাউস জানায় প্রোটোকল। একা এলেন পুতিনও।