বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৮

লকডাউন না মানায় অর্ধেক বৃটিশ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা

লকডাউন না মানায় অর্ধেক বৃটিশ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: গত জানুয়ারি থেকে এই ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বৃটিশ মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এই আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে।

একদিনে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা রেকর্ড ৮৭ জনে দাঁড়ানোর পর এমন গবেষণা প্রকাশ করে বিশ্ববিখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়। সব মিলিয়ে সরকারি হিসেবে বৃটেনে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ৪২২ জন।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারী বিষয়ক তাত্ত্বিক বা থিওরিটিক্যাল প্রফেসর সুনেত্রা গুপ্ত করোনা সংক্রমণের হার নিয়ে গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় বলা হয়েছে, বৃটেনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়েছে মধ্য জানুয়ারি থেকে। এর দু’সপ্তাহ পরে বৃটেনে প্রথম এই ভাইরাসে আক্রান্তের তথ্য মেলে।

এই ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর এক মাস আগে ওই সংক্রমণ শুরু হয় বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে। তাই এই তত্ত্বের জন্য পরীক্ষা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সুনেত্রা গুপ্ত আরো বলেন, অবিলম্বে ব্যাপকভিত্তিক সেরোলজিক্যাল জরিপ শুরু করা উচিত আমাদের। এটা হলো এন্টিবডি পরীক্ষা। এতে শরীরের রক্তরস ও অন্যান্য তরল নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

সুনেত্রা বলেন, মহামারী কি পর্যায়ে আছে তা নির্ধারণ করতে এই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একদিনে ইংল্যান্ডে কমপক্ষে ৮৭ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে লন্ডনের জাতীয় এক স্বাস্থ্য স্কিমের অধীনে এক ট্রাস্টেই মারা গেছেন ২১ জন। স্কটল্যান্ডে মারা গেছেন দু’জন। এর আগের দিন আক্রান্ত ৫৪ জন বৃটিশ মারা যান। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বৃটেনে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ গুণ।

গত মঙ্গলবার সেখানে মৃতের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭১ জন। তবে সরকারকে অবহিত করছে একটি গবেষণা। এ গবেষণা করছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞরা। তারা গবেষণায় এ রোগ নিয়ে যে তথ্য দিচ্ছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তথ্য তার বিপরীতমুখী।

প্রফেসর সুনেত্রা গুপ্ত বলেন, ইম্পেরিয়ালের করা মডেলের অযোগ্য গ্রহণযোগ্যতায় আমি বিস্মিত। ইম্পেরিয়ালের গবেষণা সরকারকে একটি ব্যতিক্রমী শাটডাউনের দিকে নিয়ে গেছে। এর ভিত্তি হলো এমন শাটডাউন না দিলে আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন।

উল্লেখ্য, মরনঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলার চেষ্টায় ইউরোপের অন্যাণ্য দেশের মত যুক্তরাজ্যও জীবনযাত্রায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গতকাল সোমবার রাতে জাতির উদ্দ্যেশে দেয়া ভাষনে আগামী তিন সপ্তাহ দেশের নাগরিকদের যার যার বাসায় অবস্থান করতে বার বার অনুরোধ করেছেন

তিনি বলেন, শরীরচর্চার প্রয়োজনে দিনে কেবল একবার বাসা থেকে বের হওয়া যাবে যারা জরুরি সেবায় জড়িত, তারা কর্মস্থলে যেতে পারবেন খাবার, ওষুধের মত জরুরি সামগ্রী কিনতে দোকানে বা চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়া যাবে। জরুরি নিত্যপণ্যের বাইরে অন্য সব পাণ্যের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাইরে একসঙ্গে দুইজনের বেশি কোথাও চলাফেরা করা যাবে না।

এদিকে সরকারের দেয়া এমন নির্দেশণা কে কোন উপদেশ নয় বরং আইন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক। তিনি বলেন, আইন শৃঙখলা বাহিনী দ্বারা এটি পরিচালিত হবে

ম্যাট হ্যানকক আরও বলেন, কেউ যদি অপ্রয়োজনে বাইরে বের হয় তাকে ৩০ পাউন্ড থেকে হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এছারাও করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য কয়েক লাখ নতুন টেস্ট ক্রয় করা হয়েছে যা কয়েকদিনের মধ্যে যুক্তরাজ্যে এসে পৌছবে বলেও জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রী




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026