শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: চীনের পর এবার করোনা মহামারীর উপকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। সুনামির মতো রোগী আসছে রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে। কানায় কানায় ভরে গেছে জরুরি বিভাগ ও আইসিইউগুলো। একই চিত্র ব্রিটেনের লন্ডনের হাসপাতালগুলোতেও।
ব্যস্ত সময় পার করছে শত শত ডাক্তার-চিকিৎসক-নার্স। একটু দম ফেলার ফুরসতও তাদের নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, একসঙ্গে এত রোগী তারা জীবনেও দেখেননি। পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে শিগগিরই উপচে পড়তে পারে। এজন্য আগেভাগেই জরুরি বিভাগ ও আইসিইউ সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে করোনার হুমকিকে গুরুত্ব না দেয়ায় লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
করোনা রোগীর চিকিৎসায় সুরক্ষামূলক পোশাকের (পারসোনাল প্রটেক্টিভ একুপমেন্ট-পিপিই) দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছে জিম্বাবুয়ের হাজার হাজার নার্স। বুধবার থেকেই কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন তারা।
পিপিই না পাওয়া পর্যন্ত কাজে যোগ দেবেন না বলেও জানিয়েছেন। একই ক্ষোভ ডাক্তারের মধ্যেও। শিগগিরই তারা কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছে জানিয়েছে এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজারের বেশি। মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ষষ্ঠ হলেও আক্রান্তের দিক দিয়ে তৃতীয়। আক্রান্তের অর্ধেকই নিউইয়র্কে। পুরো রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬৭ জন। শুধু শহরেই ২০ হাজার।
একজন নার্সসহ মারা গেছেন ২৮০ জন। বুধবার সকালে ম্যানহ্যাটানের ৭০০ শয্যার হাসপাতাল মাউন্ট সিনাই বেথ ইসরাইলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এরিক এইটিং দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, হাসপাতালে অব্যাহতভাবে আসছে করোনার রোগী।
হাসপাতালের পরিস্থিতি বর্ণনা করে জরুরি মেডিসিনের ডাক্তার ড. ক্রেইগ স্পেন্সার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে করোনার রোগী ছাড়া অন্য কোনো রোগী তিনি দেখেননি। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ও নাজুক হতে পারে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাসিও।
তিনি বলেছেন, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে করোনাভাইরাস আরও খারাপ আকার ধারণ করবে। হাসপাতালে রোগীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলেও জানান তিনি। একই পরিস্থিতি লন্ডনেও।
ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মঙ্গলবার জানিয়েছে, করোনা রোগীর সুনামির মুখে পড়েছে লন্ডনের হাসপাতালগুলো। এনএইচএসের প্রধান ক্রিস হপসন বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আরও হাসপাতাল দরকার। দুয়েকদিনের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ কয়েকগুণ বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।