বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০০

করোনায় বেকায়দায় মধ্যবিত্তরা

করোনায় বেকায়দায় মধ্যবিত্তরা

শীর্ষবিন্দু নিউজ, সিলেট: করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো বিশ্ব আজ কোপকাত। অবশ্য এর ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশেও। করোনাভাইরাসের প্রকোপ মোকাবেলায় সরকারী ছুটি বাড়ায় দ্রব্যমূল্য নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

হঠাৎ শুরু হওয়া এই মহামারি কারণে সারাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় ঘরবন্দি নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় বেকায়দায় পড়ছেন মধ্যবিত্তরা। এ অবস্থায় অনেক পরিবারের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে।

সরাসরি কোন সহায়তা না পাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন মধ্যবিত্ত শ্রেনীর পেশাজীবি  ও ব্যবসায়ীরা। তারা না পারছেন খাদ্য সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করতে, না পারছেন খাদ্য বিতরণের লাইনে দাঁড়াতে। লজ্জায় ও অভাবে বিপন্ন মধ্যবিত্ত কৃষকদের কেউ কেউ আপাতত গরু বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন। আবার গরু বিক্রির টাকায় কেউ মহাজনি ঋণও পরিশোধ করছেন। কিন্তু নিজের এবং পরিবার পরিজনের সামনের দিনগুলো কিভাবে কাটবে এই দুশ্চিন্তায় ঘুমোতে পারছেন না তারা।

লকডাউনের ফলে নগরীর সাধারণ মানুষ বিশেষ করে রিকশা চালক, সিএনজি চালক, অটো চালক, ফুল ও ফল বিক্রেতা, চা বিক্রেতা, চানাচুর বিক্রেতাসহ ভ্রাম্যমান হকাররা বেকার হয়ে পড়ছেন। কর্মহীন এসব মানুষের আয় উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

সরকারী- বেসরকারী সাহায্য সহযোগীতা যা আসছে তা অপ্রতুল। সাহায্য সহযোগীতা না বাড়লে আইনশৃঙ্খলা বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম আরেকদফা বেড়ে গেছে। কমেছে শুধু পেঁয়াজ, রসুন, ব্রয়লার মুরগির দাম। এছাড়া বেশিরভাগ পণ্যের দাম সপ্তাহখানেক আগে বেড়ে আর কমছে না।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক সিলেট শহরের একজন মুদি দোকানদার জানান, আম্বরখানায় আমার একটি মুদি দোকান আছে। এটা দিয়ে তিন সন্তানসহ পরিবার ভালোভাবেই চলে। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দোকান বন্ধ। দোকান না খুললে তো আর আয় হবে না। এদিকে মাস শেষ হয়েছে। বাসা ভাড়া, বাচ্চাদের স্কুলের বেতন দিতে হবে। কীভাবে কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।

মধ্যবিত্তদের অনেকেই আছেন যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। কিন্তু এই অবস্থায় কবে প্রতিষ্ঠান খুলবে আর খুললেও বেতন পাওয়া ও চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।

তেমনি একজন জনাব ইসলাম জানান, ধনীদের বাসায় টাকা আছে, আর গরিব-নিম্নবিত্তরা কিছুটা হলেও ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের কী হবে? আমরা কীভাবে সংসার চালাব। তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি এ অবস্থায় বেতন পাব কি না আর আদৌ চাকরি থাকবে কি-না সে চিন্তায় আছি।

যারা দৈনিক আয় করেন তারা পড়েছেন মহা বিপদে। সাধারণ ছুটি যত বাড়ছে ততোই বিপদ বাড়ছে তাদের। এমনি একজনের আইন পেশায় নিযুক্ত জনাব চৌধুরী বলেন, সবাই নিম্নবিত্ত আর গরিবদের নিয়ে কথা বলছেন। কিন্ত আমাদেরকে (মধ্যবিত্তরা) দেখার কেউ নেই। আমাদেরকে লুকিয়ে নিজেদের চোখের পানি মুছতে হচ্ছে। যতদিন অফিস-আদালত খুলছে না ততদিন আমরা বেকার। সব স্বাভাবিক হবে- এই আশা করা ছাড়া আপাতত আর কিছু করার নেই।

এদিকে, করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষায় চলমান ছুটিতে নগরবাসীর কেউ আর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। এতে করে যারা প্রতিদিন রোজগার করে সংসার চালান এরকম স্বল্প আয়ের মানুষের আয় উপার্জন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বেসরকারীখাতে সাহায্য সহযোগীতার যেসব খবর সোস্যাল মিডিয়ায় দেয়া হচ্ছে তা অনেককাংশে হচ্ছে লোক দেখানো, কিংবা সস্তা বাহবা পাওয়ার আশায়। সত্যিকার অর্থে সাধারণ গরিব মানুষ সঙ্কটের মধ্যে আছেন।

অন্যদিকে উচ্চবিত্তরা আগে-ভাগে বাজার করে ঘরে ঢুকে গেছেন। বাজার ফুরিয়ে গেলে আবার আসছেন বাজারে। কিনে নিচ্ছেন পছন্দমতো সব খাদ্যপণ্য। অবশ্য উচ্চবিত্তের মানুষ সব হিসেব-নিকেশের বাইরে। চলমান লকডাউনে তাদের ব্যস্ত সময় কাটছে টিভি দেখে কিংবা বই পড়ে।

এদিকে, প্রস্তাবিত বাজেট পেশের পর এবার সবার চোখ ছিল অর্থ বিল পাসের দিন কী হয়। কারণ প্রস্তাবিত বাজেটে যত পরিবর্তন এ দিনই হয়। তবে এবার বড় কোনো পরিবর্তন বা চমক ছাড়াই পাস হয়েছে অর্থ বিল।

আর এতে সবচেয়ে বেশি আশাহত হয়েছে মধ্যবিত্তরা। সঞ্চয়পত্রে উেস কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব হয়েছিল। তুমুল আলোচনার মধ্যেও তা বহালই রাখা হলো। অর্থবিল পাসের পরও সুযোগ থাকে। এখন ভরসাস্থল দেশের সরকার প্রধান।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026