শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৯:৪০

বরিস জনসনের স্বাস্থ্যের অবনতিতে হাসপাতালে ভর্তি

বরিস জনসনের স্বাস্থ্যের অবনতিতে হাসপাতালে ভর্তি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: যুক্তরাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে গার্ডিয়ান দাবি করেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ না বাড়লে কিংবা চিকিৎসকরা ‍উদ্বেগ প্রকাশ না করলে এ মুহূর্তে বরিস হাসপাতালে ভর্তি হতেন না।

১০ দিন ধরে করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণে ভোগার পর রবিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ছোটখাটো কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান দিয়েছে ভিন্ন আভাস।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের মধ্যে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের বেশিরভাগেরই সময় লেগেছে এক সপ্তাহ। এমনকি পরীক্ষা না করালে অনেকে হয়তো বুঝতেই পারতেন না যে তাদের করোনা হয়েছে। করোনার লক্ষণ দেখা গেলে বাড়িতে থাকতে, বিশ্রাম নিতে ও প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৮০ ভাগের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়াতেই সংক্রমণ সেরে যেতে দেখা গেছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যে সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন সে সময়েই আক্রান্ত হয়েছিলেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক। তবে হ্যানকক এক সপ্তাহের মাথায় সুস্থ হয়ে গেলেও সুস্থ হতে পারেননি বরিস জনসন।  ফুসফুস ও রক্ত পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাকে সেখানে চিকিৎসার জন্য একরাত থাকতে হতে পারে। এটিকে রুটিন চেকআপ ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে ডাউনিং স্ট্রিট।

তবে গার্ডিয়ান বলছে, হাসপাতালে এখন যে ধরনের চাপ, তাতে ছোটখাটো সমস্যার জন্য বরিস হাসপাতালে ভর্তি হতেন না। ছোটখাটো পরীক্ষা ডাউনিং স্ট্রিটে বসেই করানো যেতো।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ এন্ড কেয়ার এক্সসিলেন্স এর শুরুর দিকের গাইডলাইন অনুযায়ী যে লক্ষণগুলি দেখলে রোগীদেরকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল-

বিশ্রামে থাকা অবস্থাতেও ঘন ঘন নি:শ্বাস বা তীব্র শ্বাসকষ্ট, কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, ঠোঁট বা মুখ নীল হয়ে যাওয়া, শীত শীত ভাব লাগা, গায়ের চামড়া ফ্যাকাসে হওয়া, পড়ে যাওয়া কিংবা জ্ঞান হারিয়ে ফেলা ও প্রস্রাব কম হওয়া বা না হওয়া ইত্যাদি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ হলো, সপ্তাহ শেষে যদি শুষ্ক কাশি, শরীরের তাপমাত্রা, অবসাদ ভাব না যায় কিংবা সেগুলো আরও বেড়ে যায় তবে আক্রান্তদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও উচ্চ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষেরা আক্রান্ত হওয়ার প্রথম সপ্তাহেই ভাইরাসকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হন।

তবে এক্ষেত্রে বিপত্তি তৈরি হয় অসুস্থতা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানো মানুষদের ক্ষেত্রে। এ সময়ে আক্রান্তের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটির প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং এতে নিজের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আর তাই গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিরা এক্ষেত্রে অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অকার্যকারিতার কারণে মারা যান।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026