শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: যুক্তরাজ্যের ক্রয়ডন বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ছিল অস্থি সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য নির্মিত। কিন্তু দেশটিতে করোনা ভাইরাস মহামারি রূপ ধারণ করায় এটিকেও কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে ভয়াবহ এক পরিস্থিতিকে। তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে তারা সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। সেখানে চিকিৎসকদের এখনো পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া হয়নি। রোগিদের অনেককেই এখনো আইসিইউতে ভর্তি করা যায়নি। অনেকেই আছেন যাদের ভেন্টিলেটর দেয়া যাচ্ছে না। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই রোগিদের চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা।
তবে ক্রয়ডন হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ কারশা, এখনো আশাবাদি যে, হাসপাতালটি হয়ত পুরোপুরি এখনো ভাইরাসে ভরে যায়নি। সেখানে থাকা রোগিদের বেশিরভাগই করোনায় আক্রান্ত। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কিভাবে এই সংকটের সঙ্গে পেরে ওঠা যায়।
তবে দিন যতই যাচ্ছে তারা আরো বেশি আতঙ্কিত হয়ে পরছেন। কারণ এখানে ভর্তি হওয়া প্রতি চার জনের একজনই ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন।
হাসপাতালটিতে নার্সদের প্রধান এলাইন ক্ল্যান্সি বলেন, রোগিরা খুব ভয়ে আছেন। কারণ তারা নিজেদের জন্য খুব কম আশাই দেখছেন। তাদের ভালোবাসার মানুষ ও সহকর্মীরাও এখানে আতঙ্কিত দিন পার করছেন। আবার এখানে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরাও আতঙ্কিত। কারণ তারা কিছুই করতে পারছেন না। মানুষ মারা যাচ্ছেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃটেনে এখনো সর্বোচ্চ রূপ ধারণ করেনি মহামারি। বেশিরভাগ বলছেন এই সময়টা আসবে মে মাসের মাঝামাঝি। তবে অনেকেই এখনো অনিশ্চিত বিষয়টি নিয়ে। কভিড-১৯ রোগে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৯ হাজার মানুষ। আক্রান্ত হয়েছে ৭০ হাজারের বেশি।