শীর্ষবিন্দু নিউজ, সিলেট: গরিবের ডাক্তার বলে পরিচিত ডা. মঈন উদ্দিন করোনার কাছে পরাজিত হয়ে মারাই গেলেন। তার মৃত্যু শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে সিলেটকে। গোটা দেশের চিকিৎসক সমাজে নাড়া দিয়ে যায় ওই মৃত্যু।
করোনা ভাইরাসের মহামারী শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই আলোচনায় বেশি সিলেটের চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীরা। সিলেটে বর্তমানে ১৬ চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত। এদের মধ্যে একজন প্রফেসরও রয়েছেন। তবে- ভাগ্য ভালো এসব চিকিৎসক আগে থেকে কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন। এ কারণে তাদের কাছ থেকে নতুন করে কেউ সংক্রমণের সুযোগ ছিলো না।
তবে এসব চিকিৎসক ওসমানী মেডিকেল থেকেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। রোগীদের দ্বারাই তারা হয়েছেন সংক্রমিত। করোনার নয়, বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়েই তারা আক্রান্ত হন। ডা. মঈনের মৃত্যুর পরও সিলেটের ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মী আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা কমেনি। সিলেট বিভাগে অন্তত অর্ধশত ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মারফতেই তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন। আর সেটি শুরু হয়েছিলো ওসমানীর গাইনি ওয়ার্ড থেকে। এ ওয়ার্ডে সুনামগঞ্জের এক প্রসূতি এসেছিলেন। ওই প্রসূতি ছিলেন করোনা আক্রান্ত। সিজারের মাধ্যমে তিনি সন্তান জন্ম দেন। রিপোর্টে ওই প্রসূতির করোনা পজেটিভ আসে।
ফলে এ ঘটনার পর ওসমানীর গাইনি ওয়ার্ডে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রায় ৭৮ জন ইন্টার্নি ডাক্তারকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাদের করোনা টেস্ট করা হয়।
ওসমানীর ডাক্তাররা জানিয়েছেন- ২৩ শে এপ্রিল ওসমানীতে করোনা রোগী ধরা পড়ে। এরপর থেকে কোয়ারেন্টিনে যাওয়া ৭৮ জন ইন্টার্ন ডাক্তারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো ২৪ তারিখ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত।
এরপর সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিলো সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে। কিন্তু ল্যাবে পরীক্ষার সুযোগ মিলেনি। নমুনা জটের কারনে প্রায় হাজারো নমুনা আটকা পড়ে ওসমানীর ল্যাবে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্যেগী হয়ে অপেক্ষায় থাকা নমুনাগুলো ঢাকার আইইডিসিআরের ল্যাবে প্রেরন করেন। আর এই নমুনায় ছিলো ডাক্তারদের রিপোর্ট। ২৮শে এপ্রিল ঢাকায় নমুনা প্রেরণের পর সেগুলোর রিপোর্ট ফেরত আসে ১লা মে রাতে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানিয়েছেন- ডাক্তাররা রোগীদের দ্বারাই আক্রান্ত হন। ফলে অতিরিক্ত সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া বিকল্প নেই। নতুন করে যেসব ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তারা আগে থেকেই কোয়ারেন্টিনে ছিলেন বলে জানান তিনি। ফলে তাদের দ্বারা নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়টি চেক দেওয়া হয়েছে।
গাইনী বিভাগের সাবেক এক প্রফেসর রয়েছে। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। শুধু চিকিৎসকরাই নয়, ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি থাকা আরো ৬ রোগী ও শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা আরো ৯ জন রোগী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে- একসঙ্গে ওসমানী হাসপাতালের ১৬ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অবাক করেছে সবাইকে। চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। তারা করোনা আক্রান্ত কী না তা জানতেই সময় চলে গেলো ১০ দিনের বেশি। এখন অনেকেরই কোনো উপসর্গ নেই। কোয়ারেন্টিনে থাকলেও তারা সুস্থ রয়েছেন।