সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৫২

পর্তুগালের নাগরিকত্ব পেতে কি করতে হবে?

পর্তুগালের নাগরিকত্ব পেতে কি করতে হবে?

যুবরাজ শাহাদাত, লিসবন, পর্তুগাল: দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। আইবেরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম অংশে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত দেশটি। আটলান্টিক মহাসাগরের দুইটি স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপপুঞ্জ আসোরেস এবং মাদেইরা দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত পর্তুগালের রাজধানী লিসবন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কাছে পর্তুগাল খুব পরিচিত নাম। বৈধভাবে নির্দিষ্ট সময় বসবাসের পর চাইলে নিতে পারেন নাগরিকত্বও। চলুন জানি পর্তুগালে নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য কি কি যোগ্যতা বা মানদণ্ডের প্রয়োজন হয়।

কারা পর্তুগালের নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন ?

নাগরিকত্বের বিষয়টি কিছু ক্রাইটেরিয়া উপর ভিত্তি করে দেয়া হয়ে থাকে। নিচে করা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন তার সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল.

১. যদি আপনি পর্তুগালে জন্মগ্রহণ করেন আর আপনার মা অথবা যে কোনো একজন পর্তুগিজ হয় তাহলে আপনি জন্মসূত্রে সাথে সাথে পর্তুগিজ জাতীয়তা পাবেন।

২. আপনি যদি পর্তুগালে জন্মগ্রহণ করেন আর আপনার বাবা-মা ৩য় কোনো দেশের নাগরিক হয় তাহলে আপনি ২ বছর থাকার পর জাতীয়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই পর্তুগালে প্রাইমারি স্কুল লেভেল শেষ করতে হবে। (১৮ বছরের নিচে যাদের জন্ম পর্তুগালে তাদের জন্য) তবে বর্তমানে আইনের কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন দেশটির সরকার। যদি কোনো বাচ্চা পর্তুগালের টেরিটোরিতে জন্মগ্রহণ করে অথবা বাবা/মার  রেসিডেন্স পারমিটের বয়স ২ বছরের বেশি হয়ে থাকে তাহলে জন্মগ্রহণের পরপর নাগরিকত্বের জন্য বাচ্চার আবেদন জমা দিতে পারবেন।

৩. এ ছাড়া আপনি যদি পর্তুগালে বৈধভাবে ৫ বছরের বেশি এবং ৬ বছরের কম সময় অবস্থান করেন এবং পর্তুগিজ ল্যাঙ্গুয়েজ মিনিমাম A2 পর্যন্ত শেষ করেছেন এমন সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন। তাহলে ৫ বছর পরই পর্তুগিজ সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনার নামে কোনো প্রকার মামলা বা মামলার সাজা ২ বছরের অধিক হতে পারবে না। অর্থাৎ কোনো প্রকার ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকলে আপনি পাসপোর্ট পাবেন না।

৪. যদি আপনি পর্তুগিজ নাগরিক বিয়ে করেন বা লিভ টুগেদার করেন মিনিমাম ৩ বছর থাকেন (সিভিল রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রার করে)। তাহলে ৩ বছর পর পর্তুগিজ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে বিয়ে হলে অফিসিয়াল সার্টিফিকেট, আর লিভ টুগেদার হলে মিউনিসিপালিটিতে রেজিস্ট্রেশন  করতে হবে।

৫. যদি পর্তুগিজ নাগরিক কাউকে দত্তক নেয় তাহলে সে ৩ বছর থাকার পর দেশটির জাতীয়তা লাভ করবে।

৬. যদি আপনি পর্তুগালে জন্মগ্রহণ করেন এবং অবৈধভাবে ১ বছর থাকেন তাহলে পর্তুগিজ সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৭. যদি আপনি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক বিয়ে করে পর্তুগালে ৫ বছর থাকেন তাহলেও আপনি পর্তুগিজ সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

উপরে উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী আপনি পর্তুগিজ সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-

নাগরিকত্বের আবেদন করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগবে?   

নাগরিকত্বের প্রধান শর্ত হলো অবশ্যই বৈধভাবে ৫ বছরের বেশি ৬ বছরের কম সময় পর্তুগাল অবস্থান করতে হবে। কোনো মামলায় পর্তুগাল কিংবা নিজ দেশে ২-৩ বছরের বেশি সাজায় সাজাপ্রাপ্ত নন অর্থাৎ আপনার নামে কোনো বড় ধরনের সাজা নেই। যেকোনো মামলায় যদি ট্রাইবুনাল কর্তৃক ৩ বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তাহলে আপনি পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন না।

কি কি  ডকুমেন্টস লাগবে?

*আপনার পাসপোর্টের সকল পাতার কপি ( কপি গুলো কোনো একভোকেট, সলিসিটর দ্বারা সার্টিফাইড হতে হবে ) কোনো কপি ই সার্টিফাইড ছাড়া সিভিল রেজিস্ট্রি, কনজারবাতরিয়াতে আপনার পাসপোর্টের আবেদন জমা করবেন না ভুলেও।

*বাংলাদেশ থেকে আপনার জন্ম সনদ (অরজিনাল)

* বাংলাদেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (অরজিনাল) এবং আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট অব্যশই ৩ মাসের পুরোনো অর্থাৎ ৯০ দিন মেয়েদের মধ্যে জমা দিতে হবে

*পর্তুগিজ ভাষার দক্ষতার সনদ (A2 সার্টিফিকেট)

*পর্তুগালের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট

ডকুমেন্টস সমূহ  কোথায় কোথায় থেকে  সত্যায়িত করতে হবে?

প্রথমে বাংলাদেশ থেকে উপরের দুইটা জিনিস নোটারি পাবলিক, আইন মন্ত্রণালয় অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে। এরপর বাংলাদেশ হাইকমিশন ইন নিউ দিল্লি থেকে সত্যায়িত করতে তবে। তারপর পর্তুগিজ কনস্যুলেট, অ্যাম্বাসি ইন নিউ দিল্লি থেকে সত্যায়িত করতে হবে। এরপর পর্তুগালে কিছু কাজ যেমন- পর্তুগিজ ভাষায় ট্রান্সলেশন করে সেখান থেকে নোটারি করতে হবে।

পাসপোর্টের আবেদন জমা দেবেন কোথায়?

উপরের উল্লেখিত  ডকুমেন্টস একসাথে করে জমার দেয়ার জন্য যেকোনো Conservatórias ইংলিশে সিভিল রেজিস্ট্রি অফিস বলে সেখানে জমা করতে হবে । আপনি চাইলে  নিজেও জমা দিতে পারবেন কিংবা উকিল নিয়ে যেতে পারবেন। সকল  Conservatórias বা আই আর এন এর  লিস্ট পাবেন এখানে। নাগরিকত্বের আবেদনের সাথে সাথে আপনাকে প্রসেস নম্বর দিয়ে দেবে কোনো কোনো সিভিল রেজিস্ট্রি অফিস  কখনো  সাথে সাথে আপনার নাগরিকত্বের প্রসেস  আবার নাম্বার সাথে সাথে দিয়ে দেয়  আবার কারো কারো মাসখানেক পরে আসে। লিসবন সেন্ট্রাল এবং মার্কেস পম্বাল একদিনেই ই প্রসেস নাম্বাদের দেয়া হয়ে থাকে।

জমা করে আপনি ২/৪ সপ্তাহ পরে প্রসেস নাম্বারের জন্য সেন্ট্রাল ইনফরমেশন ডেস্কে কল করে প্রসেন নাম্বার পেতে পারেন, অনেক ক্ষেত্রে আপনার উকিলের কাছে আসলেও তারা সময় মত ইনফরমেশন ক্লাইয়েন্টের কাছে তথ্যের পৌঁছাতে সেই না।

লিসবনের ভেতরে  একটু দেরি হয় পাসপোর্টের কাজ আর বাহিরের সিটিগুলোতে একটু দ্রুত হয়। মাথায় রাখতে হবে জমা যেখানেই দেন না কেন অনলাইন অ্যাকসেসের জন্য ১২ সংখ্যার নম্বর নেবেন- যা দিয়ে আপনি বাসায় বসে এ পূরণ করতে পারবেন। অনলাইনে ঘরে বসে করার ঠিকানা

পাসপোর্টের আবেদন সম্পূর্ণ হতে কতদিন সময় লাগবে?

পাসপোর্টের আবেদন জমা দেয়ার পর কমপক্ষে ৪ থেকে ১০ মাস সময় লাগবে সম্পূর্ণ প্রসিডিউর শেষ হতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের প্রসেসের জন্য ১থেকে ১.৫ বছরও লেগে যায়. তবে বর্তমানে কাজ খুব দ্রুত হচ্ছে। জমাদানের পর অনলাইনে বা সেন্ট্রাল সার্ভিস নাম্বারে কল করে আপনি আপনার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে তথ্যের জানতে পারবেন।

অবশেষে একদিন আপনার নাগরিকত্বের আবেদন সম্পূর্ণ হবে আর আপনি পর্তুগিজ বনে যাবেন। যারা পাসপোর্টের আবেদন করেছেন এবং পেয়ে গেছেন তাদের স্বাগতম নাগরিকত্বের জন্য আর যারা ভবিষ্যতে আবেদন করবেন তাদের জন্য শুভ কামনা রইলো।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026