শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: ব্রিটেনের লন্ডনে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে জমায়েত হওয়া বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়েছে। যদিও লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এ ধরনের সমাবেশের ব্যাপারে শুক্রবার কিছু শর্তারোপ করেছিল। খবর বিবিসির।
উগ্র ডানপন্থীসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের দাবি, ব্রিটেনের ইতিহাসকে রক্ষা করার জন্য তারা সবাইকে লন্ডনে সমবেত হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রাজধানীর ভাস্কর্যগুলোকে রক্ষার জন্যই তারা মাঠে নেমেছেন। এ সময় দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে তাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষ হয়। শ্বেতাঙ্গরা ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভের সময় শত শত শ্বেতাঙ্গ লন্ডনে যুদ্ধের স্মৃতিসৌধ সেনোটাফ এবং পার্লামেন্ট ভবনের কাছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের ভাস্কর্যের কাছে জড়ো হন। এর পর উগ্র ডানপন্থী কয়েকটি বড় দল লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার এলাকায় অবস্থান নেয়। তাদের একটি দল হাইড পার্ক এলাকায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় ওই পার্কে একটি শান্তিপূর্ণ বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্সের আয়োজকরা মানুষকে এসব সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় লন্ডনসহ বেশ কয়েকটি শহরে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ভাস্কর্য বিকৃত করা হয়।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, লন্ডনের ওয়াটারলু স্টেশনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এছাড়া ট্রাফালগার স্কয়ারেও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই সংঘর্ষের পর একটি টুইট বার্তায় লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন, এটা খুবই পরিষ্কার যে ডানপন্থীরা সেন্ট্রাল লন্ডনে বিশৃঙ্খলা করছে। আমি লোকজনকে আহ্বান জানাচ্ছি তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন,। এ সংঘর্ষের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
একটি টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, আমাদের রাস্তায় কোনও জায়গা নেই বর্ণবাদী গুণ্ডাদের।পুলিশের ওপর যেই আক্রমণ করবে তার বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত: গত ২৫ মে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকে কেন্দ্র করে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ প্রতিবাদ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে চলমান বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এখনো চলছে। বিবিসি, রয়টার্স।