নিউজ ডেস্ক: সিলেটের অন্যতম স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দৈনিক সিলেটের দিনকাল’র প্রধান সম্পাদক আব্দুল লতিফ নুতন এর পিতা সাবেক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার জনাব আবুল হোসেন আজ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন….।
তার নামাজে জানাজা বুধবার সকাল ১১ ঘটিকায় নিজ গ্রামের বাড়ি মছকাপুরে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থতা ভোগছিলেন। এদিকে, জনাব আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ জানিয়েছেন লন্ডন বাংলার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আব্দুল মুনিম জাহেদি ক্যারল।
এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, আমার বন্ধু এডভোকেট কবির আহমদ বাবরের ভাই এবং সিলেটের অন্যতম সংবাদপত্র দৈনিক সিলেটের দিনকাল’র প্রধান সম্পাদক আব্দুল লতিফ নুতন এর পিতা ও সাবেক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার জনাব আবুল হোসেন, যিনি আমার একজন মামা (মায়ের মামাত ভাই) মঙ্গলবার ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন……
মহান আল্লাহ যেন আমার এই প্রিয় মামাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। হাজারো স্মৃতি বিজরিত এই মামা দীৰ্ঘদিন আমাদের সঙ্গে ছিলেন, শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
লন্ডন বাংলার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আব্দুল মুনিম জাহেদি ক্যারল তার শোক বার্তায় অনেক স্মৃতি চারণ করে লেখেন- সদ্য প্রয়াত আবুল হুসেন বছু মামা, আমার শ্বশুর বশির উদ্দিন আহমেদ তফাদার এবং আমার পিতা মোহাম্মদ আব্দুর রহিম জাহেদি, তারা তিনজনই এখন আর এ জগতে নেই, চলে গেছেন পরপারের সুন্দর জগতে। আর আমাদের জন্য রেখে গেছেন হাজারো স্মৃতি ও শিক্ষণীয় অনেক কিছু।

বাম দিক থেকে সদ্য প্রয়াত আবুল হুসেন বছু মামা, আমার শ্বশুর বশির উদ্দিন আহমেদ তফাদার এবং সর্ব ডানে আমার পিতা মোহাম্মদ আব্দুর রহিম জাহেদি
আজ এই সময়ে তাদের খুব স্মরণ হচ্ছে। ভালো মানুষগুলো একে একে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছেন, চলে যাচ্ছেন ভালোবাসাৱ প্রিয় মাঁনুষ গুলি। আমাদের মায়ার বাধন ছিড়েঁ। বছু মামা এবং আমার আব্বা সর্ম্পকে যদিও শালা-দুলাভাই। তারা রং তামাসা করতেন সবসময়, আবার আব্বাকে পরম শ্ৰদ্ধাও করতেন একজন বড় ভাই বা অভিবাবকের মত। সকল ব্যাপারে আব্বা-আম্মার পারামর্শ নিতেন এবং সে আনুযায়ী লন্ডন জীবনেৱ বাকি সময় গুলি অতিবাহিত করে গেছেন। প্রথম কয়েকদিন লন্ডন থাকার পর আমার আরেক মামাত বোন রানু আপার বার্মিংহামের বাসায় নিয়ে যাই মামাকে। আমরা যাত্রা শুরু করি লন্ডন ভিক্টোরিয়া স্টেশন থেকে বার্মিংহাম সেন্ট্রাল স্টেশন ন্যাশনাল এক্সপ্রেসে। সম্ভবত এটি ছিল আমার জীবনেৱ ন্যাশনাল এক্সপ্রেসে প্রথম জার্নি। এর আগে আরও অনেকবার বার্মিংহাম গিয়েছি তবে আমাদের প্রাইভেট কারে আব্বার সাথে। এরপর কলচেস্টার, ব্রাইটন, কেন্ট প্রতিটি শহরে নিয়ে যাই। কর্মস্থলে কোন যায়গায়ই এক সাথে বেশি দিন কাজ করেন নি।
আমাদের এলাকায় থাকেন আমার এক খালা (মায়ের মামাত বোন বিনা খালা) বছু মামার চাচাতো বোন। লন্ডন জীবনেৱ অধিকাংশ সময় বিনা খালার বাসায় দ্বিতীয় নিবাস ছিল মামার। আব্বাকে পীরসাব আর খালুকে (বিনা খালার স্বামী) সাধু বলতেন, খালু আসলেই সাধুর মতই ছিলেন, খুব নরম মেজাজের এবং পরোপকারি একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে উনার বৃদ্ধ মা এবং আমার বৃদ্ধ অন্ধ নানি, অনেক কষ্ট করে দুজন বৃদ্ধ মহিলাকে সুদুর বাংলাদেশ থেকে লন্ডন নিয়ে আসেন।
এমন দুঃসাহসিক কাজ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হবে না, খালুর এই ঋণ পরিশোধ করার নয়। এছাড়াও আরেক বার আমার এক মামাত ভাইর বউকে অনেক ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের এক দেশে মামাত ভাইর কাছে পৌছিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সময় খালুর সাথে আমরাও ছিলাম। বহু মানুষের উপকার করেছেন, বছর দুয়েক আগে খালু ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ খালুকে জান্নাত নছিব করুক।
প্রথম অবস্থায় দীর্ঘ দিন বছু মামার পরিবার পরিজন দেশে থাকায়, একাকিত্ব জীবন কাটিয়েছেন পরিবার পরিজন ছাড়া, খুব মিস করতেন তাদেরকে! বিশেষ করে ঈদ এর সময় তাদের কথা মনে করে অর্নগল জলে চোঁখ ভাসতেন, বিনা খালার ঘরের লফ্ট থেকে উনার লাগেজ বের করে দেশে চলে যাবার প্রস্তুতি নিয়েছেন অনেক বার। প্রথম প্রথম প্রবাসী জীবন অনেক সংগ্রাম করছেন, এখন উনার ছেলে মেয়ে, স্ত্রী সবাই বিলাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। উনার একমাত্র মেয়ে মৌসুমি সেন্ট আলবন্স থাকে, এক ছেলে বার্মিংহাম, এক ছেলে আমেরিকা ও বড় ছেলে বাংলাদেশে থাকে। সবাইকে ছেড়ে মাবুদের ডাকে চলে গেলে গেলেন আজ। গত চার মাস আগে দেশে থাকা অবস্থায় উনার বাড়ী গিয়ে দেখে আসায় অনেকটা শান্তি লাগছে। সবার কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং অতীতের অনেক কথা স্মরণ করে কিছু স্মৃতিচারণ করেছিলেন।
আজ মামার অকাল মৃত্যুতে উনার বিদেহী আত্নার শান্তি কামনা করি এবং মহান মাবুদের দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন সকল গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাত নছিব করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমিন!