শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:১৭

ব্রিটেনে করোনাভাইরস মহামারিতে ফার্লো অনুদানে ব্যাপক দুর্নীতি: অভিযুক্ত মালিকদের ১০ বৎসরের জেল হতে পারে

ব্রিটেনে করোনাভাইরস মহামারিতে ফার্লো অনুদানে ব্যাপক দুর্নীতি: অভিযুক্ত মালিকদের ১০ বৎসরের জেল হতে পারে

মো: রেজাউল করিম মৃধা: করোনাভাইরস মহামারিতে জনজীবন রক্ষার্থে সরকার স্টে হোম বা লক ডাউন ঘোষনা করে। সাথে সাথে ঘর বন্ধি হতে হয় সবাইকে। এই ঘর বন্ধি জন সাধারন । মালিক ও শ্রমিক দের সরকার আর্থিক অনুদান প্রদান করে। প্রতিটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুদান প্রদান করেছে সরকার সেই সাথে প্রতিসঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অনুদান প্রদান করে।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুদানের নাম ফার্লো (Furlough)। ফারলো অনুদানে (HRMC) মালিক এবং কর্মচারির মধ্যে ব্যাপক ফারাক বা দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছে।পে এ্যাজ আর্ন (PAYE)এ বাৎসরিক হিসাবের সময় কর্মচারি এবং মালিকের মধ্যে কাজ দেখানোর ক্ষেত্রে মিল খুঁজে না পেলেই গুনতে হতে পারে বিশাল অংকের জরিমানা অথবা ১০ বৎসরের জেল।

এইচ এম আর সির সি ই ও জিম হররা , “দি কমন্স পাবলিক একাউন্ট কমিটির মিটিং এ বলেন, “যে সকল মালিক পিএউয়াই সিস্টেমে গড়মিল করবে , তাদের কোন ছাড় নেই। আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যাবস্থা করতে হব”।

মালিকদের কাগজ পত্রের উপর ভিত্তি করেই তার কর্মচারী বা শ্রমিকের বেতনের শত করা ৮০ পারসেন্ট বেতন দেওয়া হচ্ছে। এইচ এম আর সির এক গবেষনায় উঠে এসেছে এতে ব্যাপক হারে দুর্নীতি হয়েছে। সরকার অনেকটা সহজ করে দিয়েছে শুধু মাত্র কর্মচারী বা শ্রমিকের নাম, এন আই নাম্বার, বয়স, ঠিকানা , কত তারিখ থেকে কত ঘন্টা কাজ । এই সহজ লভ্যকে অনেক অসাধু মালিকরা কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ পাউন্ড।

আরো একটি গবেষনায় উঠে এসেছে প্রতি চার জন মালিকের এক জন এ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। করোনাভাইরস মহামারির আগে হঠাৎ করেই মালিকদের শ্রমিক নিয়োগের হিড়িক পরে গেছে। হঠাৎ করে এতো লোকের কাজ দেখানো এবং তাদের হিসাব নিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে হোম অফিস এবং এইচ আর এম সি।

ইতিমধ্যে এইচ এম আর সি মালিকদের নোটিশ নিয়ে জানিয়েছে যদি কেউ ভূয়া শ্রমিক দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে থাকে তবে অতি দ্রুত ১৪ দিনের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অতিরিক্ত অর্থ ফেরৎ দেন তবে হয়তো রেহায় পাবেন নতুবা আইনের আওতায় ১০ বৎসরের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।

ব্রিটেনে অনেক মালিক আছেন তারা শুধু জালিয়াতি করে সরকারের নিকট থেকেই ভয়া শ্রমিক দেখিয়ে অর্থ নিয়েই ক্ষ্যান্ত হন নি যে সব শ্রমিক কাজ করতেন তাদের বেতনের শত করা ৮০ পারসেন্ট পয়সাও দিচ্ছেন না। বরং বেতনের টাকা আনতে গেলে অনেক হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে।নিজের নেজ্জ পাওনা সরকারের অনুদান তারপরও ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে বারবার।তাদের বিচার কে করবে?

অনেক শ্রমিক আছেন তারা এই করোনাভাইরস মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু মালিক সরকার কে ফাঁকি দিতে তাকে ফারলো দেখিয়ে অনুদান তুলছেন, এদের কি হব?

পরিস্কার ভাবে উল্লেখ্য আছে ফারলো শ্রমিক কাজ করতে পারবেন না। সরকারী ঘোষনা অনুযায়ী যারা কাজ করছেন তারা ফারলো স্কিমের আওতায় পরবেন না। অনেক অসৎ মালিকরা আইনের তুয়াক্কা না করে শ্রমিককে কাজ করাচ্ছেন এবং ফারলো দেখিয়ে সরকারের অনুদান ও গ্রহন করছেন। এদের বিচার কে করবে?

অফিস ফর ন্যাশনাল স্টাটিজ( ONS). তথ্য মতে করোনাভাইরস মহামারি লক ডাউনের কারনে গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত ৬০০০০০ ছয় শত হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। একই সাথে ১.৬ মিলিয়ন শ্রমিক আন এমপ্লোয়মেন্ট ক্লেইম করেছেন।ইউনিভ্যারসেল ক্রেডিডের জন্য এপলাই করে। অনেকেই মহা বিপদের মধ্যে আছেন। ১.৬ মিলিয়ন এপ্লিকেশন এক সাথে জমা পরায় হোম অফিস হিমশিম খাচ্ছে। সাথে বিপাকে পরেছে শ্রমিকরা।

করোনাভাইরস মহামারিতে সরকারি অনুদান নিয়ে এমন হাজার হাজার অভিযোগ পাচ্ছে হোম অফিস ও এইচ এম আর সি। অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার অনেক তৎপর হচ্ছে। গ্রহন করছে নতুন নতুন পলিসি।কেননা একই সাথে অনেকে ইউনিভ্যারসেল ক্রেডিডের জন্য এপলিকেশন করছেন। সেই একই ব্যাক্তিকে আবার অন্য কম্পানী বা পূর্বের কাজ থেকে ফারলো দেখিয়ে অনুদান তুলে নিয়েছে। একই ব্যাক্তি দুইটি স্থানে আবেদন করায় বিপাকে এইচ আর এম সি।

ক্রোসল্যান্ড এমপ্লোয়মেন্ট সোলিসিটরস এর গবেষনায় উঠে এসেছে। সরকার করোনাভাইরস মহামারিতে £১৯.৬ বিলিয়ন পাউন্ড ফারলোতে অনুদান অনুমোদন দিয়েছে কিন্তু এর শতকরা ২৯ পারসেন্ট জালিয়াতি হয়েছে। এই জালিয়াতি ধরার জন্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026