শীর্ষবিন্দু নিউজ, সিলেট: মহামারি করোনার সাথে সাথে বন্যার ধাক্কা লেগেছে সিলেট শহরেও। প্রায় প্রতি বছরই সুরমার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেই ডুবে যায় সিলেট নগর। এবারো একই দৃশ্য।
সিলেটে ক্রমাগত বাড়ছে সুরমা নদীর পানি। এছাড়াও বাড়ছে কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদীর পানির উচ্চতা। যা বড় ধরনের বন্যার আশংকা করা হচ্ছে।
শনিবার থেকে সিলেটে সুরমার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রোববার বেলা ১২টায় একই সময়ে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১০.৮১ মিটার। যা বিপদসীমা ১ সেন্টিমিটার উপরে। কিন্তু প্রায় বছরই বন্যায় নগর আক্রান্ত হলে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।
সুরমা নদীর পানি রবিবার সিলেট পয়েন্টেও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০.৫৪ মিটার। আজ রবিবার বেলা ১২টায় একই সময়ে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১০.৮১ মিটার। যা বিপদসীমা ১ সেন্টিমিটার উপরে।
কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা আমলশিদ পয়েন্টে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ১৪.৮৩ মিটার ছিল। আজ রবিবার বেলা ১২টায় উচ্চতা বেড়ে হয়েছে ১৪.৯৪ মিটার। শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারার পানির উচ্চতা শনিবার সন্ধ্যায় ছিল ১২.১৫ মিটার। রবিবার বেলা ১২টায় উচ্চতা বেড়ে হয়েছে ১২.৩৩ মিটার। শেরপুর পয়েন্টে কুশিয়ারার পানির উচ্চতা কাল ছিল ৭.৬৩ মিটার, আজ বেলা ১২টায় হয়েছে ৭.৭৩ মিটার।
রোববার বেলা ১২টায় একই সময়ে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১০.৮১ মিটার। যা বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপরে। এতে সিলেটে বড় আকারের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে সিলেটের অন্তত ৫টি উপজেলার বিস্তৃর্ণ নিম্নাঞ্চল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার (২৮ জুন) বেলা ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়াও সুরমা নদীর পানি রবিবার সিলেট পয়েন্টেও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
পাউবো সিলেট কার্যালয় জানিয়েছে, রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কাল শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় এ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
সুরমার পানি বেড়ে যাওয়ায় ডুবে গেছে সুরমা তীরবর্তী নগর এলাকার বিভিন্ন স্থান। অভিজাত এলাকা উপশহরেরও বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে। হাজারও মানুষ পানিবন্দি। এদিকে, কানাইঘাটের লোভা নদীর পানি গতকালের ১৫.০০ মিটার থেকে কমে আজ দুপুরে দাঁড়িয়েছে ১৪.৭৮ মিটার।
নগরের তালতলা এলাকায় গত দুই দিনের বৃষ্টির পানিতে খাল-ছড়া উপচে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি দোকান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে গোলশান হোটেলের সামনে ও মেইন সড়কেও পানি জমেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমের আগে ড্রেন পরিস্কার বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে পানি ঢুকে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। ব্যবসায়ীরা আরো জানান, তেলিহাওরের বড় ছড়াটি বেদখল হওয়া এবং ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে পানি চলাচল করতে পারে না। এতে তালতলার দোকানগুলোতে পানি উঠে যায়।
এদিকে, সিলেট শহরের অভিজাত এলাকা খ্যাত উপশহরের ই, ডি ব্লক অর্ধেকের বেশি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি তেররতন, সৈয়াদীবাগ, গোলাপবাগ সহ এলাকা সম্পূর্ণ পানির নিচে রয়েছে। উপশহরে পানি ঢুকে পড়ায় স্যুয়ারেজের পানি মিশে পরিবেশ বিষাক্ত করে তোলেছে। বন্যার পানি আঘাত হেনেছে যতরপুর পর্যন্ত।
সিলেটের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে নদীর পানি বাড়তে পারে।
জানা যায়, শহর রক্ষা বাঁধ ও ওয়াকওয়ে নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। কালিঘাট, কাজিরবাজার, শেখঘাটসহ কয়েকটি এলাকায় নদী তীরবর্তী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। গোটা সিলেট নগরকে বন্যার পানিমুক্ত করতে গত বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র দুই বছরের সময় চান।
সে সময় তিনি জানান, এখন ছড়া, ড্রেন ও খালের কাজ চলছে। এই কাজগুলো শেষ করার পর সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে ওয়াকওয়ে করা হবে। এই কাজ শেষ হলে সিলেট নগর আর পানিতে ডুববে না।
প্রসঙ্গত: সুরমা-কুশিয়ারায় পানি বাড়লেও কিছুটা কমেছে সারি ও লোভা নদীর পানি। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আজ বেলা ১২টায় পানি বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে।