লন্ডন, ৫ আগস্ট: বিলেতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
গতকাল মঙ্গলবার ৪ আগস্ট দুপুরে কভেন্ট্রির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৩ আগস্ট সোমবার রাতে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও পাঁচ কন্যা ও নাতিনাতনিসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বিলেতে থেকেও মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিলেন সক্রিয়। মাতৃভূমির স্বাধীনতার পক্ষে জনমত তৈরিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য তহবিল সংগ্রহে ছুটে বেড়িয়েছেন যুক্তরাজ্যের নানা শহরে। যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রির বাসিন্দা আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন আহমেদের বাংলাদেশের পত্রিক নিবাস ছিল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মানিককোনা গ্রামে।
কভেন্ট্রির জালালাবাদ মসজিদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ নানা সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকান্ডেও নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। জন্মস্থান সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে মানিককোনায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন মসজিদ এবং একটি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুল। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট সকাল ১১টায় কভেন্ট্রির জালালাবাদ মসজিদে তাঁর নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় লেনটোন লেইন সিমেট্রিতে তাকে দাফন করা হবে।
মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোঃ বেলাল আহমেদ তার শ্বশুর আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন আহমেদের রুহের মাগফেরাতের জন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের শোক
আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব। ক্লাবের পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের ও কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশে বসেও সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী একজন দেশপ্রেমিক সমাজকর্মীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।
আমরা জেনেছি, মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমেদ বিদেশে থাকলেও জন্মভূমির প্রতি তার দায়বদ্ধতা বিস্মৃত হননি। । তিনি তার গ্রামের বাড়িতে মসজিদ এবং একাধিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। কভেন্ট্রিতে মসজিদ প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি তাঁর পরিবার এবং স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সাপ্তাহিক পত্রিকার শোক
এদিকে মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী। এক শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁকে দেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় হতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি ছিলেন নিরলস অথচ নিভৃতচারী একজন সমাজকর্মী। এদেশে মসজিদ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি তিনি তাঁর জন্মস্থান সিলেটেও মসজিদসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে গেছেন। তার মতো ব্যক্তিত্বের চলে যাওয়া সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তার বিদেহী রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাই।
অনলাইন দৈনিক শীর্ষবিন্দুর শোক
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে অনলাইন দৈনিক শীর্ষবিন্দুর পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সম্পাদক সুমন আহমেদ। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, মরহুম আফতাব উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে দেশ স্বাধীনের পর তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজ করে প্রমান করেছেন দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে তার নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে করতে হবে। শীর্ষবিন্দু সম্পাদক বলেন, আমি এই গুনী মানুষের বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করি। একই সাথে তাঁর পরিবার এবং স্বজনরা যাতে এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন এই দোয়া করি।