শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: গত ১১ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে বড় মন্দার মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে লকডাউন জারির পর এপ্রিল থেকে জুন মাসের অর্থনীতিতে এই মন্দা দেখা দেয়। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যানবিষয়ক দফতরকে (ওএনএস) উদ্ধৃত করে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে দোকানপাট, কল-কারখানা ও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমন অবস্থায় থমকে পড়ে দেশটির অর্থনীতি। এ বছরের প্রথম ত্রৈমাসের তুলনায় দ্বিতীয় ত্রৈমাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০.৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ২০০৯ সালের পর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে এতোটা পতন দেখা যায়নি।
গত এপ্রিল থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন কর্মজীবিকে তাদের বেতনের ৮০ শতাংশ ফারলো প্রদান করছে সরকার। কিন্তু তা অনেকটা পরিবর্তন হয়ে চলতি আগাস্ট মাস থেকে ৫ শতাংশ পেনশন কন্ট্রিবিশন, সেপ্টেম্বরে এর সঙ্গে ফারলোর ১০ শতাংশ এবং অক্টোবরে আরো ১০ শতাংশ হারে মোট ২০ শতাংশ ফারলো এবং ৫ শতাংশ পেনশন মিলে ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে চাকুরীদাতা কোম্পানীকে। আর ক্ষেত্রে চাকরীদাতা প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে ২৫ শতাংশের ভার বহন করতে না চাইলে এই দুই মাসেই আরো চাকুরী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা আসতে পারে।
আর নভেম্বরে গিয়ে হয়তো ৯ মিলিয়নের বেশি ছাঁটাইয়ের ঘোষণা আসবে বসে ধারণা তাদের। ব্রিটিশ অর্থনীতি এবং চাকরী বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি খাবে নভেম্বরে। এরইমধ্যে বিভিন্ন সেক্টরের শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দেড় লাখ চাকুরী ছাটাইয়ের ঘোষণা এসেছে। কিন্তু অক্টোবরে ফারলো বন্ধ হয়ে যাবার পর গণহারে চাকুরী ছাঁটাই শুরু হবে বলে ধারনা বিশ্লেষকদের।
যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানবিদ জোনাথন অ্যাথো বলেন, জুনে দোকানপাট খুলেছে, কলকারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে, আবাসন শিল্প আবারও সচল হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে অর্থনীতির চাকা আবারও ঘুরতে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যানবিষয়ক কার্যালয় (ওএনএস) জানিয়েছে, সেবা খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক পতন দেখা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জুন মাসে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সহজ হতে শুরু করার পর অর্থনীতি আবার সচল হয়ে উঠেছে।