শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: পরিবেশ রক্ষায় তহবিল বরাদ্দের জন্যও আবেদন জানিয়েছে প্রকৃতি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংগঠনটি ন্যাশনাল ট্রাস্ট। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে থমকে যাওয়া পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলো সচল করতে এ তহবিল কাজে লাগানো হবে।
লকডাউন চলাকালীন প্রকৃতির সঙ্গে যে সংযোগ গড়ে উঠেছে তা বজায় রাখতে বিশ্ববাসীকে পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন দ্য ন্যাশনাল ট্রাস্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ছয় সপ্তাহব্যাপী শুরু হওয়া এভরিওয়ান নিডস ন্যাচারাল ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে পরিবেশ রক্ষা নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে চাইছে ন্যাশনাল ট্রাস্ট। প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে কিভাবে জীবনকে সমৃদ্ধ করে তোলা যায় সে ব্যাপারে সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে।
প্রকৃতি দেখতে এবং প্রকৃতিতে বিরাজমান শব্দ কান পেতে শোনার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে ন্যাশনাল ট্রা্স্ট। পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষায় অর্থদানের জন্যও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে এ বিজ্ঞাপনগুলো।
ন্যাশনাল ট্রাস্টের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক সেলিয়া রিচার্ডসন বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ থাকার গুরুত্বকে এখন যেকোনও সময়ের চেয়ে মানুষ বেশি উপলব্ধি করতে পারছে। আর সে ক্ষণটাকে ধরে রাখতেই এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই লকডাউনের সময় মানুষ প্রতিদিন একটু একটু করে প্রকৃতির সঙ্গে যে সংযোগ গড়ে তুলেছে তা বজায় রাখুক। পাশাপাশি আমরা তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর জন্য জরুরি সুরক্ষা প্রয়োজন।
ন্যাশনাল ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইউগভ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৩৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় প্রতিদিনই তাদের প্রকৃতিতে সময় কাটানোর ইচ্ছে হয়েছে। এক তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, ঘরবন্দি থাকতে গিয়ে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ বেড়েছে তাদের।
ন্যাশনাল ট্রাস্টের আশঙ্কা করোনা মহামারির কারণে এ বছর ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড তহবিল হারাতে হবে তাদের। এদের প্রকৃতি সংরক্ষণমূলক কাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক প্রকল্প বাতিল হয়ে যেতে পারে। সংগঠনটি মনে করে নতুন প্রজাতিসমৃদ্ধ তৃণভূমি তৈরি করে হুমকিতে থাকা ৫০টিরও বেশি প্রজাতিকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।