শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: টানা কয়েক মাস পর সশরীরে শুনানিতে অংশ নিয়ে লন্ডনের আদালতের সতর্ক বার্তা শুনেছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অংশ নেন তিনি। এই সময়ে মার্কিন সরকারের আইনজীবীর বক্তব্যের মধ্যে তাকে ‘ননসেন্স’ আখ্যা দেন এই লড়াকু সাংবাদিক।
তখন বিচারক তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করলে তার অনুপস্থিতিতেই চলবে বিচার কাজ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায়। ব্রিটিশ পুলিশও অ্যাসাঞ্জকে হেফাজতে নিয়েই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা সে সংক্রান্ত একটি মামলার বিচার চলছে ব্রিটিশ আদালতে। করোনাভাইরাসের কারণে এই মামলার শুনানি এতদিন স্থগিত ছিল। সোমবার তা আবার শুরু হচ্ছে। আগামী চার সপ্তাহ ধরে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবারের শুনানিতে মার্কিন সরকারের আইনজীবী জেমস লুইস আদালতকে জানান, উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নথি ফাঁস করে দেওয়ার জন্য নয় বরং তথ্যদাতাদের নাম প্রকাশ করে দেওয়ার কারণেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার মুখে পড়েছেন। আইনজীবীর এই বক্তব্যের জন্য তাকে ‘ননসেন্স’ আখ্যা দেন অ্যাসাঞ্জ।
ওই সময়ে আদালতের বিচারক ভেনেসা ব্যারাইতসার হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, কাঠগড়ায় থাকা কেউ তার বিরুদ্ধে অন্য কেউ বক্তব্য দেওয়ার সময় কোনওভাবেই কথা বলতে পারেন না। চাইলে পরে তিনি তা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।
বিচারক বলেন, আপনি যদি বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেন এবং একজনের স্বাক্ষ্যদানের সময় বিঘ্ন ঘটানো অব্যাহত রাখেন তাহলে আপনার অনুপিস্থিতিতে তাকে যথাযথ প্রমাণ উপস্থান করতে দেওয়ার সুযোগ আমার রয়েছে। আমি অবশ্যই তা করার ইচ্ছা রাখি না। সেকারণে আপনাকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করছি।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ২০১৯ সালের এপ্রিলে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ওইদিনই তাকে জামিন শর্ত ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ব্রিটিশ আদালত। তখন থেকে বেলমার্শ নামক কুখ্যাত কারাগারে সাজা ভোগ করছেন অ্যাসাঞ্জ। এরইমধ্যে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কম্পিউটার হ্যাক ও গুপ্তচর আইন লঙ্ঘনসহ ১৮টি অভিযোগ দায়ের করা হয়।