শীর্ষবিন্দু নিউজ, লন্ডন: চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাজ্য। লন্ডনে নতুন পর্বের সমঝোতার প্রাক্কালে সংকটের মধ্যে পড়েছে ব্রেক্সিট বাণিজ্য আলোচনা। এই আলোচনা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইইউ’র মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
এরপর থেকে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে অনড় মনোভাবের অভিযোগ এনেছে। যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আটকে গেছে তা হলো যুক্তরাজ্যের সীমান্তে মাছ ধরার অধিকার এবং শিল্পগুলোকে সরকারি অনুদান দেওয়া। যুক্তরাজ্য দুটি ক্ষেত্রেই পূর্ণ অধিকার দাবি করেছে।
ব্রেক্সিট–পরবর্তী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে যুক্তরাজ্যের। কিন্তু কোনো মতৈক্য হয়নি। ফলে এবার চাপ প্রয়োগের পথে হাঁটছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রেক্সিট–পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইইউকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
জনসন রবিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সঙ্গে চুক্তি হতেই হবে। এর মধ্যে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যি চুক্তি না হলে যুক্তরাজ্য আলোচনাই বন্ধ করে দেবে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইইউর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ধাঁচে চুক্তি হলেও তাকে স্বাগত জানাবে লন্ডন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম ও মাশুল মেনে অস্ট্রেলিয়া ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য করে থাকে।
জনসনের এমন অবস্থানের পর ইইউর প্রধান আলোচক মাইকেল বার্নিয়ের গতকাল সোমবার বলেন, তিনি আলোচনা নিয়ে ‘শঙ্কিত’ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি লন্ডনের কাছে স্পষ্টতা চাইবেন।
উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার থেকে লন্ডনে ব্রেক্সিটের পর কী হবে তা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। তার আগে এই হুমকি দিয়ে জনসন ইইউর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করলেন। এর আগে অবশ্য ইইউও জানিয়েছিল, অক্টোবরের মাঝামাঝির মধ্যে এই চুক্তির কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। কেননা, তা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পাশ করাতে হবে।