শীর্ষবিন্দু নিউজ, ঢাকা: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজ নিয়ে ঢাকা-দিল্লী অনেকটা দোটানায় পড়েছে। ভারত প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করছে না বলে মনে করে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ২০১৯ সালের অক্টোবরে বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে উভয় দেশ আগে থেকে অপরকে জানানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
একইভাবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ভারত সম্মত হয় যে পণ্য বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে বাংলাদেশকে জানাবে। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি রাখছে না দিল্লি। ভারত সরকারের সর্ব্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে গিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনও আগাম বার্তা ছাড়াই পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। যা বাংলাদেশের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এ বিষয়ে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
এদিকে, হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ ভারতের বালুরঘাটের রপ্তানিকারক রামনাথ সাহার উদ্বৃতি দিয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় জানান, গত রবিারের আগে যেসব পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য সেদেশের সরকার অনুমতি দিয়ে ছিল, সেসব পরিমাণের পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমতি দিতে পারে। ধারনা করা হচ্ছে কাল বুধবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, এটা ভারতের রপ্তানিকারকদের বক্তব্য। কিন্তু এখনো তারা কোনো সরকারি নির্দেশনা পাননি।
সরকারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, গত বছর সেপ্টেম্বরে হঠাৎ করেই পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তারপর দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উভয়পক্ষ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আগাম তথ্য প্রদান করার বিষয়ে একমত হয়। একই প্রতিশ্রুতি জানুয়ারি মাসে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে দিলেও ভারত সরকার সেটি রক্ষা করেনি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কী করছে—এ প্রশ্নে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি ভারতকে জানিয়েছি। তাদের মনে করিয়ে দিয়েছি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরপরই তাদের আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছি, যাতে তারা তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। ভারত কোনও উত্তর দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও পাইনি। তবে আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভারত সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে সঙ্কটের কারণে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বন্দরের ভারত অংশে ২৫০-৩০০ পেঁয়াজ বোঝাই ভারতীয় ট্রাক আটকা পড়ে। ভারত থেকে এই দুইদিন আমদানি না হওয়ায় বন্দরের বাজারগুলোতে দামে বড় ধরণের প্রভাব পড়ে। এতে করে ৪০ টাকার পেঁয়াজ এক লাফে ৮০-১০০ টাকায় বেচাকেনা হয়।