নিউজ ডেস্ক: টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে ডিসক্রেশনারী গ্রান্টের জন্য আবেদন করে বঞ্চিত হওয়া ব্যবসায়ীরা মেয়র জন বিগসের কাছে সহজশর্তে গ্রান্ট বরাদ্দের জন্য আকুতি জানিয়েছেন। -সাপ্তাহিক দেশ।
গত ২০ আগস্ট ‘কোভিড-১৯ গ্রান্ট রাইটস ক্যাম্পেইন গ্রুপ’ এর পক্ষে ব্রিকলেনের ব্যবসায়ী আহমদ জুনেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই দাবী জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, যেসকল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কাউন্সিলের রেইট-পেয়ার (করদাতা) নয়, তাঁরা সরকারের প্রথম দফা করোনাভাইরাস বিজনেস সাপোর্ট গ্রান্ট থেকে বঞ্চিত হন।
ফলে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের জন্য ৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ প্রদান করে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এই গ্রান্ট বরাদ্দের জন্য কিছু জটিল ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে আবেদনের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানায়।
এতে ১২১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্রান্টের জন্য আবেদন করে। কাউন্সিল এই আবেদনগুলো থেকে ৫৯২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২.১ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দিয়ে বাকি ৬২৫টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং মোট ৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ড গ্রান্টের মধ্যে ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড তাঁদের অ্যাকাউন্টে অব্যবহৃত অবস্থায় রেখে দেয়। এখন কাউন্সিলের অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড কী করা হবে তা স্পষ্ট নয়।
আবেদনকারীরা বলছেন, তারা বৈষম্যের শিকার। কাউন্সিল তাদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। কারণ প্রথমদফা যখন করদাতাদের মধ্যে গ্রান্ট বরাদ্দ দেয়া হয়, তখন ক্রাইটেরিয়া ছিলো একেবারেই সহজ। যাঁরাই আবেদন করেছেন প্রায় সকলেই গ্রান্ট পেয়েছেন। কিন্তু ডিসক্রেশনারী গ্রাণ্ট বিতরনের ক্ষেত্রে এমন কিছু কঠিন ও জটিল ক্রাইটেরিয়া তৈরি করা হয় যা পুরণ করা ছিলো অধিকাংশ ব্যবসায়ীর জন্যই প্রায় অসম্ভব। ফলে ৬২৫টি আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হয়।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সহজশর্তে বিতরনের জন্য এই গ্রাণ্ট বরাদ্দ দিলেও কাউন্সিল জটিল ক্রাইটেরিয়ার মারপ্যাচে ফেলে তাদেরকে বঞ্চিত করেছে। তাই তারা সহজশর্তে অ্যাপিলের সুযোগ দিয়ে অবশিষ্ট ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড তাদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনের কারণে তারা ব্যবসাক্ষেত্রে মারাত্নক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সরকারী সাহায্যের অভাবে অনেকের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে আসায় সরকার ব্যবসা বাণিজ্য পুনরায় চালু করার অনুমতি দিলেও করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের কারণে ফের বন্ধ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় কাউন্সিল ব্যবসায়ীদের পাশে না দাঁড়ালে তাদের পথে বসার উপক্রম হবে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করতে মেয়রের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের চিঠির ব্যাপারে সাপ্তাহিক দেশ-এর অনুসন্ধানের জবাবে মেয়র জন বিগস জানান, কাউন্সিল চলতি মাসের মধ্যেই ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে অবিশিষ্ট গ্রান্ট বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অবশিষ্ট ১.৫ মিলিয়ন পাউণ্ড গ্রান্ট কিছুতেই কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগারে ফিরে যাবে না। তবে সেপ্টেম্বর শেষ হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও গ্রান্ট বরাদ্দের ব্যাপারে কাউন্সিল থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা যায়নি।