গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নির্বাহী বোর্ডের পক্ষ থেকে সভাপতি মো: আলতাফ হোসেন বাইছ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী রুহুল ও কোষাধ্যক্ষ জবরুল ইসলাম লনী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বিবৃতিতে তাঁরা উল্লেখ্য করেন, দূর্যোগের এ ঘনঘটার মধ্যে আমদের প্রণপ্রিয় সংগঠন ‘ গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্টে’ মৃদু দুর্যোগ দেখা দিয়েছে যা অবশ্য কাঙ্খিত ছিলনা। কতীপয় সম্মানীত ট্রাস্টিদের অহেতুক ভুলবেঝা বুঝি এবং কারো কারো ভবিষ্যতের উচ্চা বিলাসের কারনে এসব ঘঠেছে, যেহেতু ট্রাস্টি বোর্ডের নির্বাচন আসন্ন। কেহ কেহ সরল মনে প্রশ্ন তোলেছেন আর কেহ কেহ ঘোলাজলে মাছ শিকার করতে চেয়েছেন। অবশ্য আমরা এর কোনোটার কাছেই জবাবদিহী করতে বাধ্য নই। আমরা কেবল মাত্র দায়বদ্ধ ট্রাস্টি সাধারণের কাছে।
আপনারা জানেন যে, বাঘিরঘাট উচ্চবিদ্যালয়ে একটি হল নির্মাণের অনুদানকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্হিতির সৃষ্টি হয়েছে তার ব্যাখ্যা করে একটি বিবৃতি দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, অচিরেই একটি জরুরী নির্বাহী বোর্ডের সভা আহ্বান করে সমুহ বিষয় সমুহের যথাসাধ্য নিষ্পত্তি করে আপনাদের উৎকন্ঠার অবসান ঘটাব।
আমরা সে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রাক্ষালে কতিপয় ট্রাস্টি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমদের প্রতি বিষেদঘার নিক্ষেপ করে চলেছেন। যা ট্রাস্টের ইতিহাসে নজির বিহীন, আমরা কুরুচি সম্পন্ন গালিগালাজ বন্ধ করার জন্য সাময়িক ভাবে আমরা আমাদের what’s up গ্রুপকে সাময়িক ভাবে admin only করে রাখি। তাতেও নিস্তার হয় নাই। কতিপয় ট্রাস্টি আরেকটা পাল্টা what’s up গ্রুপ খোলে এবং এলাকার অন্যান্য What up গ্রুপে নেক্ষারজনক কাজের ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন কোনো কুশ্রী ভাষা নেই যা ব্যবহার করছেন না। এটা কোন সভ্য সমাজের ভাষা নয়।
শিক্ষামুলক একটা সংগঠনে এদের অবস্হান কোনক্রমেই কম্য নয়। আমাদের সম্মানীত ট্রাস্টি বৃন্দ এদের বিরুদ্ধে একটা বিহিত ব্যবস্হা নিবেন বলে আমরা আশাবাদী। হিংসা মুলক মন থেকে যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন বাঘিরঘাট একটা ধনী গ্রাম, তাহলে তাদের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে ট্রাস্টের সহায্য যাবে কেনো? তাঁরা আমদের নিকট কোনো সাহায্য চায় নাই, আমরা অযাচিত ভাবে দান করেছি। কথাটা নৈতিক ভাবে, ট্রাস্টের আদর্শের দিক থেকে এবং সর্বাপরি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে অন্তঃসার শূন্য ও মিথ্যা। আমরা আগেও বলেছি এখনো বলছি-আমরা বাঘিরঘাট স্কুলে কোন ধরনের আর্থিক অনুদান দেয়ার কথা ছিলো না কিন্তু আমাদের বিগত কমিটি অত্র স্কুলে ট্রাস্টের ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করেছিলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাসম্ভব ঐ টাকা দিয়ে স্কুল ভবনে কাজ শুরু করেছেন কিন্তু বাকী টাকার অভাবে ভবন তৈরীর কাজ বন্ধ ছিল। যেহেতু ঐ টাকা ছিল ট্রাস্টের তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ ট্রাস্টের নামে ভবন তৈরী করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন যা বিগত কমিটি সম্পন্ন জ্ঞাত। আমাদেরকে স্কুল কর্তৃপক্ষ বার বার চিঠি মাধ্যমে অনুরুধ জানিয়েছেন তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে এবং বিদ্যালয় কতৃপক্ষের সনির্বন্ধ অনুরোধে শাড়া দিয়েছি। এখানে ধনী নির্ধনীর প্রশ্ন অবান্তর।
অবশ্যই বাঘিরঘাট ঘাট একটা কর্ণ-সুবর্ণ জনপদ। এখানকার গুরুতুল্য মোরব্বীয়ানদের মহান আত্মত্যাগের বদৌলতে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। মানবতার তরে নিবেদিত এ সাদকায় আমরা সামান্য অংশগ্রহন করেছি মাত্র।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদ নামফলকের ব্যাপারে একটা রেজুলেশন করে ড্রাফট অনেক আগে পাঠিয়ে ছিলেন। কভিড-১৯ কারণে কার্যকরী সভা ডাকতে পারিনাই বিধায় এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছার আগেই বিদ্যালয় কতৃপক্ষ তাদের ইচ্ছা অনুসারে নামফলক লাগিয়ে নেন। তাতে ট্রাস্টের নাম, হলের নামকরণ, কমিটির নাম উল্লেখ করতে গিয়ে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।
আমরা তাৎক্ষণিক বিদ্যালয় কতৃপক্ষের গুছরে বিষয়টি আনি এবং তাদের কে বলি যে,আমাদের কার্যনির্বাহী বোর্ডের সভার পরে, সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে যেন নামফলক লাগানো হয়। তারা আমাদের পরামর্শ কে সম্মান দেখিয়ে নামফলক খুলে নেন এবং আমাদের অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে পত্র প্রদান করেন।
অথচ ইতিমধ্যে মিথ্যার বেসাতিকারীগণ প্রচার করে যে বাঘিরঘাট গ্রামবাসী আমাদের দান কে প্রত্যাখ্যান করে নামফলক নামিয়ে ফেলেছেন। এটা নাকি তথাকথিত আন্দোলনকারীদের আন্দোলনের বিজয়। এখন সম্মানীত ট্রাস্টিবৃন্দ আপনারাই বিচার করে দেখেন এরা আসলে কি চায়? এরা সমাজনীতি কে রাজনীতির সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। যে কারনে তারা অন্ধ, অন্যায়ের বার্তা বাহক।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ন্যায় অন্যায়ের লড়াই সমাজে সব সময়ই ছিল। এটা নতুন কিছু নয়। আগে মানুষ ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস না থাকলে মনে মনে অন্তত অন্যায়কারীকে ঘৃণা করতো। পক্ষে থাকার তো প্রশ্নই আসে না। আর এখন মানুষ অন্যায়কারীর পক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। অমনকি অন্যায়কারীর হাতেগুনা কয়েকজনের মিথ্যাবাদীর পক্ষে সম্মানিত ভালোমানুষের সমর্থন আমাদের কে সত্যি ব্যাতীত করেছে।
বিগত ১৪.১০.২০২০ নির্বাহী কমিটির সভায় এই মর্মে সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় যে–
ক. প্রদত্ত ভবনের নাম হবে “ গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট হল” সংক্ষেপে GUET HALL
খ. দাতার স্থলে হবে “ গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট. ইউ কে।
গ. প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থলে হবে “কার্য্যনির্বাহি কমিটি– গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ২০১৮-২০২০” এবং মেয়াদকালীন সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের নাম। কমিটির সদস্যগণ মনে করেন যেহেতু ট্রাস্টের টাকায় ও সভাপতির ব্যক্তিগত অনুদানে এ প্রকল্পের ১০০% কাজ হয়েছে, সুতরাং কমিটির নাম সিগনেটরিসহ নামফলকে থাকা উচিত।
কমিটির রেজুলেশন প্রতি সম্মান জানিয়ে পুর্ন সমর্থন জ্ঞাপন করেন কার্যকরী কমিটির সকল সম্মানীত সদস্যবৃন্দ এবং সভাপতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা বিগত দুই বৎসর যাবত আমাদের পকেটের অনেক পাউন্ড ব্যয় করে ট্রাস্টের সকল কর্মসুচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, আপনাদের আমানতের এক পয়সাও খেয়ানত হয় নাই। ইনশাল্লাহ হবেও না।
– সংবাদ বিজ্ঞপ্তি