শীর্ষবিন্দু নিউজ, সিলেট: সিলেটে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে বাড়ছে। প্রাণহানি এই মরণঘাতি পজিটিভ শনাক্তের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। সিলেটে ফের ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করায় জনমনে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সদ্য গত হওয়া অক্টোবর মাসের শেষ ১৭ দিনে প্রথম ১০ দিন সিলেট বিভাগে কারো মৃত্যু হয়নি কোভিড–১৯ এ। তবে মাসের শেষ ৭ দিনে ঘটেছে ৫ প্রাণহানি। এর মধ্যে একদিনেই দেশের এই উত্তর–পূর্বাঞ্চলে মারা গেছেন তিনজন। সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, সিলেটে আবারও করোনায় প্রাণহানি ও পজিটিভ শনাক্ত বাড়ায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে। সিলেটে ভাইরাসটির দাপট ফের বাড়ার কথা স্বীকার করলেন স্বাস্থ্যবিভাগ সংশ্লিষ্টরাও।
স্বাস্থ্য বিভাগীয় কার্যালয়ের গত মাসের পরিসংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অক্টোবর মাসের শেষ ১৭ দিনের মধ্যে প্রথম ১০ দিন সিলেট বিভাগে কোভিড-১৯ এ কারো মৃত্যু হয়নি । তবে মাসের শেষ ৭ দিনে করোনা কেড়ে নিয়েছে ৫জনের প্রাণ। এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর একদিনেই সিলেট বিভাগে মারা গেছেন তিনজন।
স্বাস্থ্যবিভাগ সংশ্লিষ্টরা এর জন্য মাস্ক না পরা ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করাকেই দায়ী করছেন তারা। এ অব্স্থায় সর্বস্থরের মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতায় সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, এটি মানতে হবে যে– গত দুই সপ্তাহ ধরে সিলেটে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খানিকটা বেড়েছে এবং এর গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখি। তাছাড়া করোনায় বেড়েছে মৃত্যুও।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা বলা যাবে না। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি অনুল্লেখযোগ্য পর্যায়ে। হয়তো ৫% মানুষও যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানেন না, মাস্ক ব্যবহার করেন না। তাই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রকট হওয়ার সুযোগ পুরোদমে রয়েছে। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. আনিস বলেন, এ বিষয়টা আসলে আমাদের হাতে নেই। এটি পরিচালনার এখতিয়ার জেলা প্রশাসনের। আমরা বড়জোর জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানাতে পারি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ঘোষিত ‘নো মাস্ক– নো সার্ভিস’ এই স্লোগানের ভিত্তিতে আমরা সিলেটে কিছু কাজ শুরু করেছি ইতোমধ্যে। সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা লিফলেট তৈরি করছি। সেগুলো সকল সরকারি–বেসরকারি অফিস–আদালত এবং হাসপাতাল–ক্লিনিক ইত্যাদি স্থানে বিতরণ করবো। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রচারণা চালাবো।