শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০২:৪২

আজ ১৪ ডিসেম্বর: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

আজ ১৪ ডিসেম্বর: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

শীর্ষবিন্দু নিউজ, ঢাকা: আজ সেই ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আমরা সেই মহান সন্তানদের স্মরণ করি। শ্রদ্ধা জানাই। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে দেশবাসী গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সেই মানুষদের, যাঁরা ছিলেন দেশপ্রেম ও উন্নত শীরের অগ্রণী এক প্রজন্ম।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ধরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা সারা দেশে হত্যা, গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে। বাংলার মানুষের ওপর যে গণহত্যা ও নৃশংসতা চালিয়েছে, তার নজির ইতিহাসে খুব বেশি নেই।

কিন্তু সেই ৯ মাসের নৃশংসতা ছাপিয়ে যায়, যখন পরাজয় নিশ্চিত জেনে তালিকা করে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা বাংলাকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে লেখক-বুদ্ধিজীবী-শিক্ষাবিদ-চিকিৎসক-সাংবাদিক-প্রকৌশলীদের ধরে নিয়ে হত্যা করে।

বিজয়ের প্রাক্কালে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১৪ তারিখ সেই নীলনকশা বাস্তবায়ন করে হানাদার বাহিনী। তবে ১৯৭১ এর ২৫ মার্চের কালরাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার পক্ষের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার শিকার হতে হয়েছিল। সব বুদ্ধিজীবীকে স্মরণ করতে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বিজয়ের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা হারিয়েছি অধ্যাপক জি সি দেব, মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, রাশীদুল হাসান, ড. আনোয়ার পাশা, সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, নিজামুদ্দীন আহমদ, গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, সেলিনা পারভীনসহ আরও অনেককে।

তাঁরা সবাই ছিলেন চিন্তা ও মানবতার দিশারী।  তারা কেবল নিজেদের জ্ঞান-মনীষা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জাতিকে পথ দেখিয়েছেন তা-ই নয়, তারা এই দেশে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছেন জীবদ্দশায়। ৪৯ বছর পর সরকার প্রাথমিকভাবে এক হাজার ২২২ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা অনুমোদন করেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়নে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এ তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ তালিকা প্রকাশ করা হবে।

রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে গতবছর নভেম্বরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গবেষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও কালো পতাকা অর্ধনমিতকরণ, মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। তবে এবার করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বুদ্ধিজীবী দিবসের কর্মসূচি পালিত হবে।

মিরপুর ও রায়েরবাজারের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বরাবরের মতোই আজ সকাল থেকে নামবে অগণিত মানুষের ঢল। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা, সর্বস্তরের মানুষ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন, বিশেষত নতুন প্রজন্মের বাঙালিরা গভীর শ্রদ্ধা ও বিনয়ে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করবেন স্মৃতিসৌধের বেদিতে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) পৃথক বাণী দিয়েছেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026